গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (অনার্স) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে সবশেষ অনুষ্ঠিত ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান শাখা) ভর্তি পরীক্ষায় একাধিক পরিসংখ্যানগত গোঁজামিলের অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে পরীক্ষায় মোট উপস্থিতি ও ফল প্রকাশে উল্লিখিত উপস্থিতির মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, পরীক্ষা না দিয়েও ৫৩ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ‘এ’ ইউনিটে মোট আবেদন করেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ জন। ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ জন (৭৫.৭৯ শতাংশ)।
তবে পরীক্ষার দিনের উপস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৫ জন (৭৫.৭৬ শতাংশ)। এতে পরীক্ষা না দিয়েও পরিসংখ্যানে ৫৩ জনকে অতিরিক্ত উপস্থিত দেখানোর বিষয়টি সামনে আসে।
শুধু তাই নয়, পাশের হারেও গরমিল দেখা গেছে।
ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ নম্বর বা তার বেশি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৮ হাজার ৮৮ জন, যা শতাংশ হিসাবে ৩০.২৪ শতাংশ। কিন্তু কর্তৃপক্ষ পাশের হার উল্লেখ করেছে ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৩০ নম্বরের কম পেয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৮৭ হাজার ৭৪০ জন, যা শতকরা হিসাবে ৬৯.৬৭ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও পরিসংখ্যানে ৬৯.৫০ শতাংশ দেখানো হয়েছে।
এদিকে পরীক্ষার দিনের অনুপস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিতি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০ হাজার ২৭৭ জন (২৪.২৪ শতাংশ)। তবে প্রকাশিত ফলাফলে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার ২২৪ জন। এতে ৫৩ জনকে কম দেখানো হয়েছে।
গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তি পরীক্ষার কোর কমিটির সচিব অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছের কোনো সদস্য উপস্থিত না থাকায় সংশ্লিষ্টরা মৌখিকভাবে তথ্য দিয়েছেন। এ কারণে কিছু তথ্যের গরমিল হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দেশের ২১টি কেন্দ্রে এক ঘণ্টাব্যাপী ‘এ’ ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, এতে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকার মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তওকির সিদ্দিকী ইশতি। যিনি ৮৭ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন।
এফআর