চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর আলম শামীম (৪০) হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি মো. সোহেল (২৬) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লিচুবাগান এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে সীতাকুণ্ড মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ভাটেরখীল এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হন জাহাঙ্গীর আলম শামীম। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শামীম তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মুরাদপুর ইউনিয়নের তালতলা বেড়িবাঁধ এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয় যে, মামলার অন্যতম আসামি সোহেল রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল সীতাকুণ্ডের মধ্যম ভাটেরখীল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের ভাই মো. সেলিম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আগেও এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছিল।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-৭। গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঙ্গুনিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, র্যাব-৭-এর অভিযানে গ্রেফতার সোহেল শামীম হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
রগ কেটে ও কুপিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো সীতাকুণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধান অন্যতম এক আসামি গ্রেফতার হওয়ায় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং এলাকাবাসী দ্রুত সব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই