যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিতে পারে তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের কূটনৈতিক উদ্যোগে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও জেদ্দার সাম্প্রতিক বৈঠকের পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণে সম্ভাব্য চারটি দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে।
কৌশলগত বিরতি ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি
বর্তমানে কার্যকর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী সমাধান নয়, বরং একটি সাময়িক ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্পষ্ট শর্তের অভাব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ সময়কে দুই পক্ষই সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশল পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত হামলার পথে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
ছায়াযুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে ধরা হচ্ছে সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং ‘ছায়াযুদ্ধ’ এর ধারাবাহিকতা। এতে দুই দেশই সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে প্রক্সি বাহিনী বা মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরাক, ইয়েমেন কিংবা লোহিত সাগর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার ও পাল্টাপাল্টি হামলা চালাতে পারে। তবে এ ধরনের নিয়ন্ত্রিত সংঘাতও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সামান্য ভুল হিসাব বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতার, ওমান এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও নৌ অবরোধ
আরেকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৌশলগত পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে নৌ অবরোধ বা কঠোর সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। এতে শুধু ইরান নয়, চীনসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বড় চাপের মুখে পড়তে পারে। একইসঙ্গে এ ধরনের পদক্ষেপ মার্কিন নৌবাহিনীকেও সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত বাস্তবতার ভেতর দিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে সীমিত সংঘাতের ধোঁয়া, অন্যদিকে কূটনীতির ক্ষীণ আলো এই দ্বৈততার ভেতরেই অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
আরবিএন