অতিবৃষ্টির পানিতে চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

হাওরের বুকে এখন শুধু পানি আর পানি। কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টিতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যে

2026-04-16T18:00:10+00:00
2026-04-16T18:00:10+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
অতিবৃষ্টির পানিতে চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০০ পিএম 
নোয়াগড় হাওরে বাঁধ রক্ষার জন্য এলাকার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম। ছবি : সময়ের আলো
হাওরের বুকে এখন শুধু পানি আর পানি। কয়েক দিনের টানা অতিবৃষ্টিতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যে জমিতে সোনালী ধানের স্বপ্ন বুনেছিলেন কৃষক, সেই জমিই এখন পরিণত হয়েছে এক বিশাল জলরাশিতে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। তবে হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে এর একটি বড় অংশ এখন পানির নিচে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিলাবৃষ্টি, যা ফসলের ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় হাওরে একটি বাঁধ রক্ষার জন্য কয়েকদিন ধরে পুরো এলাকার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দিন-রাত পরিশ্রম করে মাটি ফেলে বাঁধটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বুধবার হঠাৎ করেই বাঁধটির একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর এলাকাবাসী দ্রুত বাঁশের আড়া ও বস্তায় মাটি ভরে তা রক্ষার চেষ্টা করলেও এরই মধ্যে হাওরে পানি প্রবেশ করে শত শত কিয়ার জমি তলিয়ে যায়।

এছাড়া কাকাইলছেও ইউনিয়নের আনন্দপুর হাওরেও পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই পুরো হাওর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন হাজারো কৃষক।

অপরদিকে, সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বদলপুর ইউনিয়নের মাইঝ বন, দারগা বন ও দড়ারভাট বন হাওরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এতে পাকা ধানের বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়া বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়ে বদলপুর ইউনিয়নের পিঠুয়াকান্দি হাওর ও আশপাশের গ্রাম এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ক্ষেতের ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও শুধু ধানের শীষের আগা দেখা যাচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় সেটুকুও নেই। পানির স্রোত ও জলাবদ্ধতায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল।

এদিকে শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর এক মরিয়া চেষ্টা হিসেবে হাওরে কৃষকদের কোমর পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটতে দেখা গেছে।

এক কৃষক বলেন, চোখের সামনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এই ধানই ছিল আমার বছরের একমাত্র ভরসা।

অনেক কৃষক নিজেরাই জমির ধান কাটার চেষ্টা করলেও পানির কারণে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ কোমর পানিতে নেমে কাজ করছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে বসে আছেন।

এলাকার সচেতন মহল বলছে, হাওরের পানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। হাওরের এই দৃশ্য যেন এক নিঃশব্দ আর্তনাদ; কৃষকের সারাবছরের পরিশ্রম, আশা আর স্বপ্ন সবকিছুই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, নোয়াগড় হাওরে প্রায় ৮০ হেক্টর এবং কাকাইলছেওয়ে ৪ হেক্টর জমি নিমজ্জিত ও আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে উপজেলার কিছু হাওরে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধানের প্রায় ৫ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে।


  বিষয়:   হবিগঞ্জ  আজমিরীগঞ্জ  বোরো  হাওর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: