বাঙালির আবহমান সংস্কৃতি ও লোকসাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পাবনার ঈশ্বরদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চরগড়গড়িতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো তিনদিনব্যাপী ‘চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব’। উৎসবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক ও আবৃত্তি শিল্পীরা।
কবি মজিদ মাহমুদের সভাপতিত্বে সাহিত্য উৎসবের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, কবি মানিক পণ্ডিত, নজরুল গবেষক আনোয়ারুল হকসহ দুই বাংলার লেখক কবিরা।
এ সময় বক্তারা বাঙালির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে লোকগান, কাব্য ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সাথে ধর্মের অপব্যাখ্যায় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বর্ষবরণ শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে শুরু হয়। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা উৎসবে অংশ নেন। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, শিশু ও নবীন প্রবীণ কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর বসে উৎসব স্থলে। অনুষ্ঠানে শুরুতেই চরনিকেতন বৌটুবানি পাঠশালার শিশু শিল্পীরা জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন।
তিনদিনের আয়োজন নিয়ে আয়োজকেরা জানান, ঈশ্বরদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চরগড়গড়ি গ্রাম এখন শিক্ষাদীক্ষা ও শিল্পসাহিত্যের জন্য বেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। গত ২৭ বছর ধরে কবি মজিদ মাহমুদের উদ্যোগে এই জনপদে বাংলা সাহিত্যের গবেষণা ও প্রসারে কাজ করছে চর নিকেতন কাব্যমঞ্চ। এই উৎসবে দেশ বিদেশের কবি সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে উৎসব হয়ে উঠে প্রাণবন্ত।
কবি-সাহিত্যিকদের উপস্থিতিতে মিলন মেলায় পরিণত হয় চরগড়গড়ি কাব্যমঞ্চ। শিল্প-সাহিত্যের আলোয় আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিবছর বৈশাখ মাসে এই সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।