তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাতকানিয়া

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

দেশের অন্যান্য এলাকার মতো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাতেও শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বৈশাখের তীব্র গরমের মধ্যে লাগামহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনে নেমে

2026-04-17T13:40:12+00:00
2026-04-17T13:40:12+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাতকানিয়া
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪০ পিএম 
সাতকানিয়া উপজেলা পল্লিা বিদ্যুৎ অফিস। ছবি : সংগৃহীত
দেশের অন্যান্য এলাকার মতো চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাতেও শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বৈশাখের তীব্র গরমের মধ্যে লাগামহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনজীবনে নেমে এনেছে চরম দুর্ভোগ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই উপজেলায় একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাতজুড়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় কোনো না কোনো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই বেশিরভাগ এলাকায় নেমে আসে ঘন অন্ধকার।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, সামনে পরীক্ষা, কিন্তু ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে বসে পড়া যায় না, আবার আলোও থাকে না। মোমবাতি বা চার্জ লাইটে কতক্ষণই বা পড়া সম্ভব?


আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, দিনেও পড়তে সমস্যা হয়। ফ্যান না থাকায় গরমে মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। পরীক্ষার আগে এমন পরিস্থিতি খুবই দুশ্চিন্তার।

অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির আহমদ বলেন, আগে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসত, এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

আরেক বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন জানান, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং অসহনীয়ভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে-আসছে। একবার গেলে দুই ঘণ্টা পর আসে। দিনে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। অধিকাংশ ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে জেনারেটর কিংবা আইপিএসের ওপর নির্ভর করছেন। এতে বাড়ছে ব্যয়।

ব্যবসায়ী তারেকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ব্যবসার পরিবেশ নেই। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

 তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে পোলট্রি খাত।

খামারি মো. জালাল জানান, নিয়মিত লোডশেডিং ও গরমে খামারের মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ছে, অনেক মারা যাচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে খরচ সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। অনেক খামার বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ সাতকানিয়া জোনাল কর্মকর্তা এজিএম মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এই সমস্যা শুধু সাতকানিয়া নয়, সারা দেশেই বিরাজ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   লোডশেডিং  বিপর্যস্ত  সাতকানিয়া 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: