মাথা
ক্রমশ খুলে ফেলা হচ্ছে আমাদের মাথা
পাথর ও হাতুড়ি মেরে মেরে
অথচ আমাদের মাথা এক সবুজ বন
দোলে পুষ্প, পাখিদের গীত হয়
আর অসংখ্য জোনাকির ভীড়
আর আমরা ভালোবাসি সত্য ও প্রেম
তাই আমাদের মাথা থেতলে যায়
তোমরা ভাবো
আমাদের মাথাতো ঘোড়ার ডিম
অথবা গোলাকার কাঁচের বল—
হতে পারে আবর্জনায় ঠাসা!
আমাদের মাথার আর কী বা মূল্য—!
সুতরাং ইচ্ছে হলেই পাথর ধরো
ছুঁড়ে মারো (যতদূর উঁচু থেকে পারো)
এবং থেতলে দাও
যেনো, তোমরা থেতলে দিলেই আমাদের মাথা কিছুটা মূল্য পায়!
শিমুলের বনে
শিমুলের বনে এক সুরেলা ঘুঘু
তেরচা রোদ এসে পড়ে তার গায়
শালিকের ঠোঁট গুঁজে রাখা লালে
বিধুর লগন করে ওঠে হায় হায়!
ফুল ঝরে লাল হয়ে আছে মাটি
কেউ যেন খুন হয়ে গেছে খুব
কাঁদছি স্বজন হয়ে পাশেতে বসি
হাওয়া এসে তুলে হেরি ধরছে চিবুক।
চিন্তায় লাগে সেই রক্তের দাগ
লেখা হয় শোকগাথা কাঁটার নিবে
চিরদিন খুন হয় কবির হৃদয়—
প্রসূনের নাভি চাটে ঘাসের জিভে।
কার ডাকে এসেছি এই শিমুল বনে
আমারে দেখায় নাচ পিতলের পরী
দেহেতে ফুলের মন জড়িয়ে নিয়ে
শিমুলের বাড়ি এসে ঘুমিয়ে পড়ি।
সাধক
কচ্ছপের খোপে একটা জীবন কাটিয়ে দেবার পর
তোমার মনে পড়লো খরগোশের কথা!
যদিও প্রতিযোগিতায় তোমার বিশ্বাস ছিলো না কোনদিন;
অবশ্য ততোদিনে তুমি শিখে নিয়েছো
তপ্ত মরুতে বসেও কীভাবে করতে হয় আশ্চর্য ধ্যান
আর মেটাতে হয় আত্মার তৃষ্ণা—
আর সাধক চিরকাল পাহাড়— উচুতে একা স্থির হয়ে থাকেন!
পরিচর্যা
সবুজ পাতার ওপর—
এক ফোঁটা জলের জীবন নিয়ে বসে আছি;
আর কাঁপছি হাওয়ার বিদ্রুপে
সহসা ধাক্কা দিলে
পড়বো ঝরে মাটির মমতায়
অথবা ধূসর কোন ধুলোর পাঁজরে
আমার ওপরে পা রেখে
অবজ্ঞায় তুমি মারিয়ে চলে যাবে—
তখন মাটির অন্তরে মিশে
ঘাসের জীবনে দেবো নিবিড় পরিচর্যা—
সিনার ভেতরে উজ্জ্বল ফুল তার হলুদে উঠবে দুলে।
নিশ্চিহ্নকরণ
পথে পড়ে পাওয়া কাঠপেন্সিল। কারো থেকে চেয়ে নিয়ে সাদা পৃষ্ঠা আঁকতে শুরু করি নিজের অবয়ব। আপন গ্রন্থি। অবয়বের মধ্যে যদিও মুখটাই মূখ্য; তবুও আঁকি সমস্ত অঙ্গ—লিঙ্গ সংযোগে। আঁকি দেহের নানান জটিলতা। আঁকা শেষ হলে পেন্সিল রেখে হাতে তুলে নেই উন্নত ইরেজার। পাওয়া যায় ইরেজার থরে বিথরে। মুছতে শুরু করি পা থেকে এবং মাথা অব্দি পৌঁছাই