লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা বেষ্টিত চরকালকিনি ইউনিয়নে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ও নৌপথে পণ্য পরিবহন ঘিরে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সুমনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট মাঝেরচর ও নাছিরগঞ্জ ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইব্রাহিম সুমনকে মূল হোতা করে ৫ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, আবদুল মজিদ মেম্বার (সহ-সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপি), অদুদ মাঝি (সভাপতি, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি), ইসমাইল হোসেন সবুজ (সভাপতি, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল) ও ফারুক বাঘা (সভাপতি, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)। তাদের সঙ্গে ১০-১২ জনের একটি সক্রিয় বাহিনী রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি ঘাট ইজারার তোয়াক্কা না করে পণ্যবাহী নৌকা ও ট্রলার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা না দিলে নৌকা ভিড়তে বাধা দেওয়া ও পণ্য আটকে রাখার ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা হারে চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছে। তরমুজ প্রতি পিস ৩ টাকা, ধান, সয়াবিন ও মরিচ বস্তা প্রতি ৪০ টাকা, সিমেন্ট প্রতি ব্যাগ ১৫ টাকা এবং বালুবাহী বলগেট প্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থের একটি অংশ উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছেও পৌঁছায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ঘাটে অতিরিক্ত চাঁদা দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই ভবিষ্যতে চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র মূল ইজারাদার সাবেরুল ইসলাম বলেন, তার কাছ থেকে সাব-ইজারা নেওয়া হুমায়ুন কবিরকেও এসব নেতারা মানছেন না। তারা কোনো নিয়ম না মেনেই টাকা আদায় করছেন।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইব্রাহিম সুমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করা হচ্ছে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্তদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবিএন