পোকা
এ ছলের বিষয়, বিভ্রান্তেরও—বুক ফুলিয়ে হাঁটতে গেলেই বিরহে মাথা নিচু হয়া যায়। আর, দিক-বিদিক দৌঁড়াতে থাকে মস্তিস্কের পোকা, একবার ভবানীপুর, তো অন্যবার লাখপুর যায়— মাঝামাঝি ভৈরব-দ্বাড়িয়াকান্দি হয়া ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বেলাব ব্রিজে মিছিলে কিলবিল করে এইসব পোকা। এইসব গ্রামে-গঞ্জে যারে দেখি তারেই আমার আমার লাগে।
অসুখ
শিখণ্ডীর তীরে ছিন্ন হই, আর ব্যাঙের ডাকে সন্ধ্যারাতেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়ার মতন জড়িয়ে ধরো গলা। কচি লাউ গাছের মতন শরীর কোনক্রমেই অতিক্রম করতে পারি না— সিএনজি চালিত একেকটা ট্যাক্সি রাতভর অতিক্রম করে যায় কতশত নক্ষত্র, মাঝরাতে মাঝপথে মরে পড়ে থাকা মাদিশেয়ালের দেহ; পেছন পেছন আসে তাও এই একচাঁদ— ঐ এক মুখ থেকে বেরিয়ে সারারাত ঘুরে আমার পেছন পেছন।
মর্গরুম
ব্রাহ্মন্দী শহর থেকে বার্তা এনেছিলেন যে প্রবাসীরা, তারা পড়ে আছে, মৃত। এই দূর কুলিয়ারচরে আমি কার কাছে যাই? মধ্যাহ্নভোজের মতন মাধুর্যের ভিন্নতা নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে সন্ধ্যারাতেই শেয়াল ডাকে, মানুষ অভ্যাসের লাশ, মর্গরুমে শুয়ে শুয়ে ভাবে এই বুঝি শেয়ালে খেলো তাদের, লাশ মর্গে রেখে ফিরে যাচ্ছিল যারা। আর তারা? ফিরে যেতে যেতে শুনল ছুরিতে শাণ দেয়ার শব্দ, যা ঋতুগঞ্জের মেঘ কালো করে কোনদিন বৃষ্টি নামাতে পারে না।
বেলাব
বেলাবর মাটিতে হাঁটতে পারি না, মায়া হয়, বেলাবরে তাই বুকে নিয়া ঘুরি, খুব ভারী। খানিক পর পর শরীরে চুমু খাই, ধুলায়। পুত্র অধিক প্রিয় না পতি, ময়ূরাক্ষী? দুজনই একজন হলে এই তবে কাটা যাবে মুণ্ডু নাকি উল্টে যাবে দুনিয়া ভিখেরির নখের মতন? এই অবাধ্য ভাবনা মস্তিষ্কে স্থির, সব বয়সেই তার কেশপুষ্পের ভেতর পড়ে থাকে মন। এই কেশপুষ্পই এই অঞ্চলে ঝোপ, বেশ পুরনো, সবুজ—এই ঝোপেই চারটা ছানাসহ এক মা ডাহুকিকে হেঁটে যেতে দেখেছি, দেখেছি মর্গরুমের পাশে কূট কী ফুলের মোহে জেগে থাকে ডোম, কালী নদীর বাঁকে কেবল তোমাকেই দেখি না।
দেহভঙ্গিমা
পালে হাওয়া লেগে দিক ভুলে বিদিকে যায় বেহুলার ভেলা
ক্রমশ দীর্ঘ হয় ভ্রমণ, তার স্তন বেয়ে নেমে আসে এই সন্ধ্যা
বন্যহাঁস ঘরে ফিরবে, বন্যশুকর ঘরে ফিরবে এইসব আশা
করি না— ঘুণপোকা খেয়ে যাবে শরীর, এই যা কামনা
পাখিসঙ্গম শেষে চুপচাপ ঝরে যায় বৃক্ষের হলুদ পাতা
দারুকলমির ফাঁপা কাণ্ডের ভেতর কী সব কষ, ঝোপে গোখরোর বাসা
তার পাশে আমি প্রথম দেখেছি দৈহিক নির্জনতা, মৌচাক ছেড়ে যাওয়া
মৌমাছির দেহ বিচ্ছেদে জ্বলে যাওয়া দেহভঙ্গিমা।