আন্তর্জাতিক নৌপথে স্বস্তির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত আবারও থমকে গেল বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি না পেয়ে পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে জাহাজটি।
শুক্রবার রাতে নতুন করে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাজটি। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে এটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশও করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান জানান, ইরানের সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে অগ্রযাত্রার অনুমতি না পাওয়ায় তাদের ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফলে রাত পৌনে একটার দিকে জাহাজটি আবারও আগের অবস্থানে ফিরে যেতে শুরু করে। শুধু এই জাহাজই নয়, একই সময়ে প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজকেও পিছু হটতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
এর আগে ইরান কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিলে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়। সেই ধারাবাহিকতায় অগ্রভাগেই ছিল বাংলাদেশের এই জাহাজটি। তবে বাস্তবে অনুমতির জটিলতা কাটেনি বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে বাংলার জয়যাত্রা। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সেখানে অবস্থান করা জাহাজটিকে মার্চে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে নতুন গন্তব্য নির্ধারণ করা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন।
কিন্তু একাধিকবার চেষ্টা করেও হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি না মেলায় জাহাজটি একই এলাকায় অপেক্ষা করে আসছে। সর্বশেষ চেষ্টাটিও ব্যর্থ হওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়ত হলো।
এদিকে জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রা নিয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা রয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন। পানির সাশ্রয়ের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে বাড়ানো হয়েছে খাবার বরাদ্দ ও অতিরিক্ত ভাতা।
এএডি/