চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে আট ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব পদক প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা বইমেলার সমাপনী দিনে ‘স্বাধীনতা পদক–২০২৬’ ও ‘সাহিত্য সম্মাননা পদক–২০২৬’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এসময় চসিক মেয়র বলেন, যোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই সম্মাননার মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতির প্রতি তাদের অবদানের স্বীকৃতি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং তাদের অবদানই ছিল প্রধান বিবেচ্য।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অর্জন শুধু এই অঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাতটি বিষয়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে এ প্রতিষ্ঠান, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে একটি মাইলফলক। একইসঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য নূর আহমেদ চেয়ারম্যানকে সম্মাননা প্রদানের পেছনের যুক্তিও তুলে ধরেন তিনি।
বইমেলার সফল আয়োজন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এবারের মেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে। যা পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম- ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. নছরুল কদির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু।
প্রসঙ্গত, এবার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননার জন্য মোট আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের জন্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একরামুল করিম, শিক্ষাক্ষেত্রে চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নূর আহমদ চেয়ারম্যান (মরণোত্তর), চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডা. এম. এ. ফয়েজ এবং সাংবাদিকতায় দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী সম্মাননায় ভূষিত হন।
এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, সমাজসেবায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বাস্থ্যসেবায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), সঙ্গীতে শিল্পী আবদুল মান্নান রানা এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অবদানের জন্য শিল্পী বুলবুল আকতার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা লাভ করেন।
অন্যদিকে গীতিকবিতায় ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শিশু সাহিত্যে সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, প্রবন্ধ ও গবেষণায় হারুন রশীদ, কবিতায় শাহিদ হাসান এবং কথাসাহিত্যে জাহেদ মোতালেবকে সাহিত্য সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এফআর