মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে- বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এসেছে। যুদ্ধবিরতির আভাস মিলতেই যে স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা একদিনের মধ্যেই ভেঙে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে- এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকা পর্যন্ত এই পথ বন্ধই থাকবে।
পরিস্থিতির নাটকীয়তা আরও বাড়িয়েছে সময়ের ব্যবধান। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। সেই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে এবং কয়েকটি জাহাজ নিরাপদে যাতায়াতও করে। কিন্তু হঠাৎ করেই অবস্থান বদলে কড়া বার্তা দেয় আইআরজিসি।
এদিকে ভারত জানিয়েছে, তাদের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের সময় গুলির মুখে পড়ে। একই তথ্য দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নৌ পর্যবেক্ষণ সংস্থাও। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে তিনি “অপরিণামদর্শী” সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, প্রণালি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতি বাতিল হতে পারে এবং মার্কিন অবরোধ আরও জোরদার করা হবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই প্রণালি এখন শুধু একটি নৌপথ নয়- বরং এটি হয়ে উঠেছে শক্তি প্রদর্শনের কৌশলগত হাতিয়ার। ইরান একে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের অবস্থান জানানোর মাধ্যম হিসেবে, আর যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিরোধে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অল্প সময়ের ব্যবধানে ‘খোলা’ থেকে ‘বন্ধ’- এই নাটকীয় পরিবর্তন প্রমাণ করছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, নৌ বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায়।
এএডি/