শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো সরকার। পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল প্রথা এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতিমালার ২৯ নম্বর ধারা আর কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ আগামী থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নীরব বহিষ্কারের বিধান আর প্রযোজ্য হবে না।
এই সিদ্ধান্ত আসে শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশের পর। একই দিনে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরীক্ষায় এই বিতর্কিত নিয়ম বাতিলের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক একটি নীতিমালার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা চাপ তৈরি হচ্ছিল। তার মতে, বর্তমান সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই এবং তাই এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আর প্রয়োজনীয় নয়।
আরও পড়ুন
শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬১ সালের পুরোনো নীতিমালার ভিত্তিতে এই প্রথা চালু থাকলেও ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে এটি সময়োপযোগী ছিল না এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর নীতিমালা থেকে এই ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রে অযথা আতঙ্ক বা কঠোরতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারবে।
এএডি/