প্রাণী হত্যা ইসলামের শিক্ষা নয়

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

ইসলাম

আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যত প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের উপকার করে। মানুষের প্রয়োজনে আল্লাহর সৃষ্টি সবই সুন্দর।

2026-04-19T15:33:26+00:00
2026-04-19T15:33:26+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
প্রাণী হত্যা ইসলামের শিক্ষা নয়
মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম 
প্রতীকী ছবি
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যত প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের উপকার করে। মানুষের প্রয়োজনে আল্লাহর সৃষ্টি সবই সুন্দর। আকাশে পাখি উড়ে যায়, পানির নিচে মাছ সাঁতার কাটে, কিংবা ডালপালা ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ গাছ- সবকিছুই মানুষের প্রয়োজনে লাগে। আল্লাহর কোনো সৃষ্টিই অনর্থক নয়, যদিও মানুষ তা বুঝতে অক্ষম। সংবাদপত্রে প্রায়ই আমরা দেখতে পাই- বিষ দিয়ে মৌমাছি, মাছ, গবাদিপশু হত্যা করা হয়। কারেন্ট দিয়ে হাতি মেরে ফেলতেও অনেকের বিবেকে বাধে না। অবলা কুকুরছানাকে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া গাছ কেটে ফেলা, সাবাড় করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। পরিযায়ী পাখি হত্যারও রীতিমতো উৎসব দেখা যায়।

এই যে প্রাণী হত্যা করা হচ্ছে, প্রথমে খতিয়ে দেখতে হবে এর প্রকৃত কারণ কী। কারও সঙ্গে কারও শত্রুতা, এই শত্রুতার কারণে প্রাণী বা ফসলের ক্ষতি করা হয়। অন্যের ভালো দেখে হিংসায় জ্বলে-পুড়ে রাতের আঁধারে পুকুরের পানিতে বিষ মেশানো হয়। হাতি যে রাস্তায় চলাচল করে, সেখানে বাড়িঘর তোলা হয়েছে। বন কমে গেছে, খাবারও নেই সেখানে। এসব কারণে হাতি লোকালয়ে আসে। দুঃখজনক বিষয় হলো, হাতিকে তাড়িয়ে না দিয়ে বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে হত্যা করা হয়। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কোনো প্রাণীরই তেমন দোষ নেই। মানুষই প্রাণীদের নিরাপদ পরিবেশ কেড়ে নিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসে। আবার সমস্যা হলে সমাধানের দিকে না গিয়ে হত্যার পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে। কারণ প্রাণীরা অবলা, তারা নিজেদের ক্ষতি হলেও আইনের আশ্রয় নিতে পারে না।
আরও পড়ুন

এবার আসা যাক, অকারণে প্রাণী হত্যা কিংবা কষ্ট যারা দেয়, ইসলাম তাদের কী সুখবর দিচ্ছে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘ভূপৃষ্ঠে চলাচলকারী প্রতিটি জীব এবং বায়ুমণ্ডলে ডানার সাহায্যে উড়ন্ত প্রতিটি পাখিই তোমাদের মতো এক একটি জাতি; আমি কিতাবে কোনো বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে বাদ রাখিনি। অতঃপর তাদের সবাইকে রবের কাছে সমবেত করা হবে’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৩৮)। এই আয়াতের মূল কথা হলো, মানুষ ও জিন ছাড়া অন্য প্রাণীদের পরকাল না থাকলেও কেয়ামতের দিন তাদের কথা আল্লাহ শুনবেন। তারা এক একটি জাতি। আপনার প্রাণী হত্যার অপরাধ হয়তো কেউ দেখল না, বিচারও হলো না; কিন্তু পৃথিবীর সবকিছু যার নির্দেশে চলে, সেই মহান আল্লাহ কি দেখেন না? আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো পথই নেই। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো চড়ুইকে বিনা কারণে হত্যা করে, কেয়ামতের দিন সেই চড়ুই আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করবে’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪৩৪৬)। লক্ষ করুন, অতিক্ষুদ্র চড়ুই পাখির সুরক্ষার ব্যাপারেও নবীজি (সা.) নির্দেশনা দিয়েছেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, ‘দয়াশীলদের ওপর করুণাময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া করো, তা হলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪১)। এর অর্থ হলো- আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করবেন। একটি কুকুর বা বিড়ালকে খাবার খাইয়ে যদি আল্লাহর দয়া পাওয়া যায়, তা হলে এমন নির্বোধ কি কেউ আছে, যে এমন দয়া পেতে চায় না? কুকুরকে পানি খাইয়ে এক ব্যভিচারিণী আল্লাহর ক্ষমা পেয়েছে, আবার বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারণে এক নারী জাহান্নামে গেছে (বুখারি, হাদিস : ৩৩২১)। এই হাদিসের কথা আমাদের অনেকেরই জানা আছে।

কুকুর-বিড়াল তো তুলনামূলক বড় প্রাণী। এবার অতিক্ষুদ্র পিঁপড়ার কথাই ধরা যাক। কুরআনে পিঁপড়ার নামেও একটি সুরা আছে- সুরা নমল। আরবি ‘নমল’ শব্দের অর্থ পিঁপড়ে বা পিপীলিকা। নবীজি (সা.) পিঁপড়া মারতে নিষেধ করেছেন। সুরা নমল, আয়াত ১৭, ১৮ ও ১৯-এ এর প্রসঙ্গ রয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি (সা.) চার প্রকার প্রাণী মারতে নিষেধ করেছেন- পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ পাখি ও চড়ুইসদৃশ বাজপাখি। তিনি বলেছেন, পিঁপড়ারাও আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে। তাই অহেতুক এদের মারা ঠিক নয়। যুদ্ধের সময় হজরত সোলায়মান (আ.) তাঁর সেনাদলকে এমনভাবে চলাচল করতে বলেছেন, যেন তাদের পায়ের তলে পিঁপড়ার দল না পড়ে।

অন্যের সম্পদের ক্ষতি করলে ইসলাম কী বলে, এবার সেটাও জানা যাক। ধরেই নিলাম, অন্যের গরু আপনার ফসলের ক্ষতি করছে। আপনি গরুর মালিককে জানাতে পারেন, সালিশ ডাকতে পারেন। তাতে কাজ না হলে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পথ তো খোলাই আছে। হজরত আবু সিরমা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য কারও ক্ষতিসাধন করে, আল্লাহ তায়ালা তা দিয়েই তার ক্ষতিসাধন করেন। যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৪০)

একটু ভেবে দেখুন, কী ভয়ংকর কথা! আল্লাহ স্বয়ং আপনার ক্ষতিসাধন করবেন, কষ্টে ফেলবেন- যদি আপনি অন্যের ক্ষতি করেন। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে, যেন বিনা কারণে কেউ প্রাণী হত্যা না করে। হত্যাকারীকে ধরিয়ে দেওয়া হলে সেটাও হবে একটি অত্যন্ত উত্তম কাজ।

এএডি/


  বিষয়:   প্রাণী  হত্যা  ইসলাম  শিক্ষা 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: