মানুষ মাত্রই ভুল-বিচ্যুতির শিকার। ভুল হয় না এমন কোনো মানুষ হয় না। ভুল যেমন রয়েছে, তেমনি সংশোধনও রয়েছে। ইসলাম ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। কেউ কেউ অন্যের ভুল দেখলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে সংশোধন করে দেওয়ার পরিবর্তে ধমক ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথাও বলে ফেলেন। খুব বড় কিংবা জঘন্য কোনো ভুল নিয়ে বলছি না, নিত্যনৈমিত্তিক সূচিত হওয়া ছোট ছোট ভুলের কথা। ভুল সংশোধনে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আচরণ ছিল অত্যন্ত হিকমাহ ও আন্তরিকপূর্ণ। একবার রাসুল (সা.) হজরত আনাস (রা.)-কে বললেন, আনাস, তুমি কি এ কাজটি করতে পারবে? আনাস (রা.) বললেন, না, আমি পারব না (আনাস (রা.) তখন ছিলেন ছোট। এ কথা শুনে রাসুল (সা.) মুচকি হাসলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন। হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘ দশ বছর রাসুল (সা.)-এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তীতে হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘ওই দিন রাসুল (সা.)-এর মুচকি হাসিই ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি। আমার জীবনে আর কোনো এমন ভুল দ্বিতীয়বার হয়নি।’ এ ছাড়া যেকোনো ভুল হলে, ‘তুমি এটি কেন করলে?’ এমনটিও তিনি বলতেন না। এমনকি রাসুল (সা.)-এর খেদমতে কাটানো দীর্ঘ দশ বছরে রাসুল (সা.) আমার প্রতি একটি কটু বাক্যও ব্যবহার করেননি।
আরও পড়ুন
এক কুরাইশ সাহাবি (রা.) এসে রাসুল (সা.)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.), আপনি আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন।’ তখন মজলিসে থাকা অন্য সাহাবিরা রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। কিন্তু রাসুল (সা.) অত্যন্ত আন্তরিকপূর্ণ হিকমার সঙ্গে যুবককে কাছে এনে বললেন, হে আমার সাহাবি শোনো, এমনটি তোমার মায়ের সঙ্গে হোক তা কি চাও? সে জবাবে বলল, ‘না’। অতঃপর, রাসুল (সা.) বললেন, তোমার কন্যা বা বোনের সঙ্গে হোক এমনটি চাও? সে পুনরায় জবাবে বলল, ‘না’ এবং অন্যরাও তা চাইবে না। অবশেষে যুবক সাহাবি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। অতঃপর রাসুল (সা.) যুবক সাহাবির হাত ধরে দোয়া করে বললেন, ‘আল্লাহ, যুবকের পাপকে ক্ষমা করে দিন, তার অন্তরকে পবিত্র করুন এবং তাকে সহিষ্ণু করুন (তার এমন কামনার বিরুদ্ধে)।’ ওই ঘটনার প্রতি ভালো করে লক্ষ করুন, যুবকটি স্বয়ং রাসুল (সা.)-এর কাছে জঘন্য একটি পাপ কাজের (জিনা) অনুমতি চাওয়াতে রাসুল (সা.) রেগে যাননি এবং ধমকও দেননি; বরং অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাছে টেনে হিকমার সঙ্গে বুঝিয়েছেন এবং তার ভুলকে সংশোধন করেছেন।
বর্তমান সময়ে দেখা যায়, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দোকানের কর্মচারীর ভুলের দরুন মালিক অত্যন্ত কটু বাক্য ব্যবহার করে থাকে, ধমক দিয়ে থাকে এবং প্রহার করে বসে ইত্যাদি। এমনটি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কাউকে সরাসরি আঘাত দিয়ে কথা বললে কিংবা ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে বললেও মাঝেমধ্যে তা হিতে বিপরীত ঘটে। তাই রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ভুলকে সংশোধন করার চেষ্টাতে রয়েছে সাফল্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।
এএডি/