গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার দাবি করেছে, এটি অপহরণ নয়, মেয়েটি স্বেচ্ছায় তাদের ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে।
ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নয়নপুর এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হলেও প্রধান আসামি আবিদ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামের প্রশিকা মোড় এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে আবিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়।
গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে আবিদ ও তার সহযোগীরা প্রথমে শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে। পরে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়, দরজা ভেঙে, পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং শিক্ষার্থীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা ইমাম হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরেছিল। সেখান থেকে আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আমার মেয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত। প্রেমের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও জানান, তাদের দোষত্রুটি আড়াল করতেই মেয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, আবিদের মামাতো বোন দাবি করেন, আবিদের সঙ্গে মেয়েটির দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা দুই পরিবারসহ স্থানীয়দের জানা ছিল। ১লা বৈশাখে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়েটিকে বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে মেয়েটি ছেলের সহায়তা চাইলে তাকে নিয়ে আসা হয়। এখানে অপহরণের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি, মেয়ে স্বেচ্ছায় এসেছে।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা জানান, শনিবার সকালে এমসি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই