সিআরবিতে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা নিয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ ফের শুরু হওয়ায় খবরে সর্বস্তরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রোববার সন্ধ্যায় হাসপাতাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেলমন্ত্রী। এসময় রেলওয়ের কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে হাসপাতালের প্রস্তাবিত এলাকার বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এখানে হাসপাতাল করা হবে কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমাদের সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্দোলন যারা করছে সেটা তাদের ব্যাপার।
সিআরবিতে হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না : চসিক মেয়র
এদিকে, হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগে খবরে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে প্রতিবাদী মানববন্ধন পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। এরই মধ্যে সিআরবিতে হাসপাতাল করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এক অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র বলেন, নগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনও স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান লিচুতলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’ উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
অন্যদিকে সিআরবি ‘রেলওয়ের প্রস্তাবিত হাসপাতাল প্রকল্পের স্থান’ পরিদর্শনে আসার খবর সামনে আসার পর গত দুইদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রোববার সকালে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প ‘পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সিআরবি রক্ষা পরিষদ। সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সিআরবি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সিআরবি সরকার কর্তৃক হেরিটেজ হিসেবে ঘোষিত। সেখানে বেসরকারি কোনো স্থাপনা নির্মাণ হতে পারে না। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছিল এবং আমাদের আন্দোলনের মুখে তারা সেখান থেকে সরে যায়।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, সিআরবি এলাকায় মোট ছয় একর জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব আছে। ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতাল তৈরির চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। এরপর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
তারপর ২০২১ সালের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। এরপর থেকে সিআরবি রক্ষায় গড়ে উঠেছে আন্দোলন। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এই আন্দোলনে অংশ নেন। তাদের মতে, সিআরবি চট্টগ্রামের ফুসফুস। এই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে গাছ কেটে কখনো হাসপাতাল করা যাবে না।
এফআর