কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীতে সব হারানোর পরেও নিজ অর্থায়নে প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে তীর রক্ষার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব বয়সি নুরুজ্জামান। তিস্তার তীরে পৈতৃক সম্পদের শেষ চিহ্ন সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়ি ভিটার ৫ শতাংশ গত বছরই তিস্তা গিলে খেয়েছে। অবশিষ্ট আড়াই শতাংশের ওপর বসতঘরের একাংশেই প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রীকে নিয়ে একমাত্র অবলম্বন চা-বিস্কুটের দোকান দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন নুরুজ্জামান। ২ মেয়ে ও ৪ ছেলের পিতা নুরুজ্জামান অনেক আগেই ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা সবাই পৃথক পৃথক সংসার করে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। ভাগ্যের নির্মম চক্রে একমাত্র স্ত্রীকে নিয়েই জীবন সায়াহ্নে এসে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে নুরুজ্জামানকে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াই পিয়ার মৌজার পাকার মাথায় তিস্তার তীরে বসবাস নুরুজ্জামানের।
সরেজমিন রোববার বিকালে গিয়ে দেখা যায়, নুরুজ্জামান প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিজস্ব খরচে প্রায় শতাধিক প্লাস্টিকের বস্তায় বালু ভরে তার শেষ ঠিকানা বসতঘর রক্ষার জন্য বস্তাগুলো পুনঃস্থাপন করছেন। কেন এগুলো করছেন?
প্রশ্নের জবাবে জানান, অল্প কিছু দিনের মধ্যে বর্ষার পানি এসে এখানে আঘাত করবে। কোন জায়গায় বেশি আঘাত হানতে পারে, সে জায়গা খুঁজে খুঁজে সেখানে বস্তা ভালো করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। অবসরে হাতের কাছে প্রতিবেশীদের কাউকে পেলেই তিনি তিস্তার পানির আঘাত যেখানে বেশি আঘাত হানতে পারে, সেখানেই বেশি বস্তা দিতেই বারবার বস্তার অবস্থান বদলিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি জানান, তিস্তা আমাদের বাড়ির ভিটা ভেঙে নিয়ে যায় প্রায় চার বছর আগে। এখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তিস্তার পেটেই রয়েছে আমাদের আসল বাড়ি। এরপর আমার পৈতৃক সম্পত্তির শেষ সম্বল সাড়ে ৭ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি করি তিন বছর আগে। দুই বছরের মাথায় তিস্তা এখানেও হানা দিয়ে আমার বাড়ি ভিটার ঘরসহ প্রায় ৫ শতাংশ গত বছরই ভেঙে নিয়ে যায়।
গত বছর ভাঙনের সময় ভাঙন রোধে পাউবো কিছু বালুর বস্তা ফেলেছিল ওই এলাকায়। তার কিছু চিহ্ন পাওয়া গেলেও নুরুজ্জামানের ওই জায়গায় পাউবোর বস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই।
নুরুজ্জামান আরও জানান, আমি অনেক কষ্ট করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর ফোন নম্বর ম্যানেজ করে কথা বলে আকুতি জানিয়েছি, আমার শেষ সম্বল রক্ষায় কিছু বস্তা দিয়ে সহযোগিতা করতে। কিন্তু তেমন কোনো আশ্বাস না পেয়ে নিজেই প্লাস্টিকের চালের বস্তা কিনে ভাঙন রোধের চেষ্টা আমার।
এ প্রসঙ্গে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, আমি বিষয়টি জানি এবং আমদের লোকজন নুরুজ্জামানের বাড়ি দেখে এসেছে। আমাদের বস্তা অতি দ্রুত চলে এলে নুরুজ্জামানের শেষ অবস্থান রক্ষায় কাজ করা হবে।