ভারতের বিহারে একটি সরকারি হাসপাতালে জনবল সংকট কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, তার এক উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে শেষ পর্যন্ত একজন নিরাপত্তারক্ষীকেই রোগীর ক্ষত সেলাইয়ের কাজে যুক্ত হতে হয়েছে- যা নিয়ে ইতোমধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঘটনাটি ভারতের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বাগাহা উপ-বিভাগীয় হাসপাতালে।
একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার আহত রোগী একসঙ্গে হাসপাতালে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। তখন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স কিংবা ড্রেসার না থাকায় জরুরি সেবার অংশ হিসেবে নিরাপত্তারক্ষীকে চিকিৎসা সহায়তায় যুক্ত করা হয়।
আহতদের একজন ওয়াসিম আখতার জানান, বাগাহা-বেত্তিয়া মহাসড়কের শাস্ত্রী নগর এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও টেম্পোর সংঘর্ষে তারা আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই।
আরও পড়ুন
একই সময় আরও কয়েকজন আহত রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এক নিরাপত্তারক্ষীকে ক্ষত সেলাইয়ের কাজে সহায়তা করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
হাসপাতালটির ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট ডা. অশোক কুমার তিওয়ারি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে জনবল সংকট রয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের সহকারী ও ড্রেসারের পদ শূন্য থাকায় সীমিত সংখ্যক কর্মী দিয়েই সেবা চালাতে হচ্ছে। তিনি জানান, এক রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, তাই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প হিসেবে নিরাপত্তারক্ষীর সহায়তা নেওয়া হয়।
তবে আহত রোগীরা এই ঘটনাকে চরম অবহেলা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রশিক্ষণবিহীন কারও মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। স্বাস্থ্যসেবার এমন চিত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এএডি/