নিজের মোবাইল নেই, অন্যের মোবাইলে ইউটিউব দেখে আগ্রহ তৈরি হয় ব্লাক রাইস চাষে। শুরু হয় বিভিন্ন স্থান থেকে বীজ সংগ্রহ করা। এলাকায় নতুন জাতের ধান ব্লাক রাইস চাষে সফল হয়েছেন মেহেরপুরের গাংনীর সাহারবাটি গ্রামের কৃষক সাবান আলী। মাত্র ১৫ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এখন প্রতিদিনই তার ধানক্ষেত দেখে এ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কেউ পরামর্শ নিতে, কেউ আবার অগ্রিম বীজ সংগ্রহে আসছেন।
কৃষক সাবান আলী জানান, অনেক কষ্টে বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক কেজি বীজ সংগ্রহ করে তিনি ব্ল্যাক রাইস চাষ শুরু করেন। সাধারণ ধানের তুলনায় এ ধানে সার, কীটনাশক ও সেচ কম লাগে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। শুরুতে অনেকেই তার এই চাষ নিয়ে নানা মন্তব্য করেছিলেন। তবে এখন সেই সমালোচনা পিছনে ফেলে অনেকেই তার কাছে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং ব্ল্যাক রাইস চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ধানক্ষেত দেখেতে আসা কৃষক রমজান আলী জানান, কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় ব্ল্যাক রাইস এখন তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ধানের গোছা ও শীষ বেশ মোটা। শীষে ধানের পরিমাণও বেশি তাই যদি ফলন ভালো হয় আমরাও এ ধানের চাষ করবো। একই ধরণের আশা প্রকাশ করেন মজনুর রহমান, আব্দুল আলীমসহ অনেকেই।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান, সাধারণ ধানের তুলনায় ব্ল্যাক রাইসের বাজারমূল্য অনেক বেশি। এছাড়া ব্ল্যাক রাইসের চালে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য উপকারী হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা বেশি। গত বছর প্রতি মন ব্ল্যাক রাইস ধান প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর এর চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে। কৃষকদের মাঝে এ জাতের ধান সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/জোই