বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানাকে বদলি করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার খাদিজা খাতুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা যায়, মাহমুদা সুলতানার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উপজেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ সান্তাহার শাহী জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের জন্য পুকুরে মাটি খননের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।
এরই প্রতিবাদে ৩১ মার্চ বিকেলে মসজিদের মুসল্লিদের উদ্যোগে তার বদলির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ভূমি সংক্রান্ত নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ছিল দীর্ঘদিনের।
অভিযোগ রয়েছে, সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তার আচরণ ছিল অমার্জিত। এমনকি আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেবা নিতে আসা মানুষদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার অধীনস্থ এক সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে দেওয়ার পর অভিযোগকারীকে ডেকে নিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক সরকারি সম্পত্তি নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার খবর জানার পর এলাকার সেবাপ্রত্যাশীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
আরবিএন