আমেরিকা কেন ছোট অস্ত্রের পথে হাঁটছে না

নজরুল রাসেল

মতামত

চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রকম্পিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে বিশ্ব রাজনীতিতে

2026-04-23T02:08:35+00:00
2026-04-23T02:08:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
আমেরিকা কেন ছোট অস্ত্রের পথে হাঁটছে না
নজরুল রাসেল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৮ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
চলতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রকম্পিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ উন্মোচিত হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত এপ্রিল নাগাদ জটিল আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। এই সংঘাত এখন কেবল সামরিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর অর্থনৈতিক প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক নৌ অবরোধ এবং তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো আধুনিক রণক্ষেত্রে গতানুগতিক বড় ও দামি অস্ত্রের বিপরীতে ছোট ও সস্তা অস্ত্রের অভাবনীয় সাফল্য। ইরান ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি সুইসাইড ড্রোন এবং পাঁচশ পঞ্চাশের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই তুলনামূলক সস্তা অস্ত্রগুলো আটকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ব্যবহার করতে হয়েছে অত্যন্ত দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। ফলে তাদের হাই-অ্যান্ড ডিফেন্স সিস্টেম দ্রুত ওভারলোড হয়ে যায় এবং টমাহক ও থাড মিসাইলের স্টক শেষ হতে থাকে। অন্যদিকে একটি দশ হাজার ডলারের ড্রোনের বিপরীতে খরচ হয় এক থেকে ত্রিশ লাখ ডলারের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল!

Advertisement
শুধু ইরান যুদ্ধে নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ছোট অস্ত্রের সাফল্য দেখা গেছে। রুশ ট্যাঙ্ক টি-৭২ ও টি-৯০ এবং সাঁজোয়া যান ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে জ্যাভেলিন ও এনএলএডব্লিউ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের মাধ্যমে। বিশেষ করে পাঁচশ থেকে দুই হাজার ডলার মূল্যের এফপিভি ড্রোন দিয়ে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ লাখ ডলারের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানপ্যাডস, যেমন স্টিঙ্গার মিসাইল নিম্ন উচ্চতার বিমান ও হেলিকপ্টারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফগানিস্তান থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যন্ত ছোট অস্ত্র কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আক্রমণকারী এখন কম খরচে প্রতিরক্ষাকে ব্যয়বহুল করে তুলতে পারছে। এই ‘কস্ট অ্যাসিমেট্রি’ বা ব্যয়ের বৈষম্য যুদ্ধের চিরচেনা ব্যাকরণকে বদলে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন

এই অ্যাসিমেট্রিক কনফ্লিক্ট ও শহুরে যুদ্ধে বড় ট্যাঙ্ক বা বিমান অনেক সময় কম কার্যকর হয়, বরং ছোট, দ্রুত ও ফ্লেক্সিবল অস্ত্র বেশি কাজে দেয়। সস্তা অস্ত্র দ্রুত তৈরি ও প্রতিস্থাপন করা যায়, যেখানে অগ্রসর মিসাইল তৈরি করতে সময় লাগে। চলমান ইরান যুদ্ধে আমরা দেখছি, প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো অত্যন্ত দামি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সস্তা ড্রোনের ঝাঁকের কাছে হিমশিম খাচ্ছে। ম্যাস ডেপ্লয়মেন্ট বা সংখ্যার শক্তি এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইরান হাজার হাজার ড্রোন ব্যবহার করে স্যাচুরেশন অ্যাটাক তৈরি করছে, যেখানে কোয়ান্টিটি কোয়ালিটিতে রূপ নিচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে ড্রোন সুয়ার্ম ও এআই-সক্ষম টার্গেটিং নির্ভর।

যখন প্রমাণিত হচ্ছে যে, ছোট ও সস্তা অস্ত্র দিয়েও বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, তখন আমেরিকা কেন এখনও বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা শতকোটি ডলারের মিসাইল সিস্টেমের ওপরই প্রধানত নির্ভর করছে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসার গভীর রাজনৈতিক অর্থনীতিতে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির সঙ্গে তার অর্থনৈতিক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। আর বর্তমান বিশ্বে অস্ত্র ব্যবসা একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হাতিয়ার। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২৪ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র একাই বৈশ্বিক অস্ত্র রফতানির প্রায় ৪০-৪৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেছে, যা দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক দেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি! তাদের ক্রেতা তালিকায় রয়েছে ১০০টিরও বেশি দেশ, যাদের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং পোল্যান্ডের মতো বড় রাষ্ট্রগুলো অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘মেজর আর্মস’ বা বড় যুদ্ধাস্ত্র বিক্রিতে শীর্ষস্থানীয়। এর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধবিমান (যেমন এফ-৩৫), মিসাইল ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান, যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র। এ ছাড়া স্মল আর্মস, যেমন রাইফেল, গোলাবারুদ ইত্যাদিও বিক্রি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি মূলত উচ্চ প্রযুক্তির বড় অস্ত্র ব্যবস্থায়। কারণ এসব অস্ত্রের মূল্য বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি হয়।

এ ছাড়াও যখন কোনো দেশ আমেরিকার কাছ থেকে একটি বড় যুদ্ধাস্ত্র কেনে, তখন পরবর্তী ২০ থেকে ৩০ বছর সেই দেশকে খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার আপডেট, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সাপোর্ট, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ দলের জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে হয়। এটি অস্ত্রের সার্ভিসভিত্তিক আয়, যা বিক্রির পরবর্তী সেবা থেকে মোট আয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক বেশি। এসব সেবা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোই প্রদান করে। বস্তুত আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসার মডেল একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘লাইফ-সাইকেল বিজনেস মডেল’।

শুধু অর্থনৈতিক নয়, বড় অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ক্রেতা দেশগুলোর ওপর কৌশলগত প্রভাবও বিস্তার করে, যার মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। অনেক সময় ক্রেতা দেশ এসব অস্ত্র কাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে বা পারবে না, কাদের সঙ্গে যুদ্ধাস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি করতে পারবে বা পারবে না এসব নিয়ন্ত্রণ করার শর্তও থাকে চুক্তির আওতায়। আবার উচ্চ প্রযুক্তির বড় অস্ত্রের বা এর খুচরা যন্ত্রাংশের সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েও তারা এসব দেশের ওপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখতে পারে। বস্তুত এই দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতাই আমেরিকার বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক প্রভাবের মূল ভিত্তি।

কাজেই ছোট ও সস্তা অস্ত্র কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা এগুলো উৎপাদন ও বিক্রিতে মনোযোগ দেবে না। কারণ ছোট অস্ত্রের ব্যবসায় মুনাফা এবং নিয়ন্ত্রণ উভয়ই সীমিত। এগুলোর আফটার সার্ভিস, স্পেয়ার পার্টস ও টেকনিক্যাল সার্ভিস লাগবে না। অর্থাৎ আমেরিকার সাহায্য ছাড়াই ক্রেতা দেশ নিজেরাই ঠিক বা মেরামত করে নিতে পারবে। ফলে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে ক্রেতা দেশে আমেরিকান সৈন্য মোতায়েন রাখা, যৌথভাবে সামরিক কার্যকলাপ পরিচালনা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান- কোনো কিছুরই আর তেমন প্রভাব ও গুরুত্ব থাকবে না। কাজেই ছোট ও সস্তা অস্ত্র বিক্রি করে আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা কঠিন হবে।

সিপ্রির রিপোর্টে উল্লেখ আছে, ‘বাস্তব যুদ্ধ অস্ত্রের অপারেশনাল পারফরমেন্স মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ তার প্রমাণ আমরা দেখেছি, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন হয়েছে; প্রিসিশন-গাইডেড উইপনসের কার্যকারিতা যাচাই হয়েছে। শুধু অস্ত্রের যাচাই নয়, প্রতিটি যুদ্ধ উন্নত অস্ত্রের একটি বড় প্রমোশনাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। কাজেই যুদ্ধে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, তা শুধু জয়ের কথা বিবেচনা করেই ব্যবহৃত হয় না, আগামী দিনে অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলো বা কোম্পানিগুলো কোন কোন অস্ত্র বাজারে বিক্রি করতে চায়, কোন কোন অস্ত্রের প্রচার করতে চায় সেটি বিবেচনা করেও অস্ত্র ব্যবহৃত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধের সময় কার্যকর প্রমাণিত অস্ত্রের রফতানি সম্ভাবনা বাড়ে।’ উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে জ্যাভেলিন ও হাইমারসের কার্যকারিতা প্রমাণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এগুলোর প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে; লকহিড মার্টিন কোম্পানির অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে।

বর্তমান ইরান যুদ্ধে আমেরিকা যদি ছোট ও সস্তা অস্ত্র দিয়ে জয়ের চেষ্টা করত এবং সফল হতো, তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশ আর দামি প্যাট্রিয়ট বা যুদ্ধবিমান কিনতে চাইত না। তারা আমেরিকার কাছে সস্তা ড্রোন বা ছোট অস্ত্র কিনতে চাইত এবং একসময় নিজেরা সেই অস্ত্র বিশ্লেষণ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে যেত। কাজেই আমেরিকা যদি ম্যাসিভ স্কেলে ছোট ও সস্তা যুদ্ধাস্ত্র তৈরি ও বিক্রি শুরু করে, তা হলে শুরুতে হয়তো অনেক দেশ তাদের কাছ থেকে এগুলো কিনবে, কিন্তু একটা সময়ে এসে সেই বিক্রি অনেক কমে যাবে এবং এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো ব্যবসার কাঠামো ভেঙে পড়বে।

কাজেই আমেরিকা চাইবে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ব্যবহার করে তাদের উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান, ইন্টারসেপ্টর এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে। যাতে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ আরও বেশি করে দামি অস্ত্র অর্ডার করে। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র আমদানি ১৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর বড় অংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আমেরিকা যদি সস্তা ড্রোন দিয়ে ইরানকে কাবু করে ফেলে, তবে তাদের সেই মিলিটারি উয়েপনজ প্রমোশন ভেস্তে যাবে। তাই যুদ্ধের ময়দানে জয় পাওয়ার চেয়েও আমেরিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাদের দামি অস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করা।

ছোট ও সস্তা অস্ত্র কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা কেন সেদিকে ঝুঁকছে না, তার আরেকটি কারণ সম্ভবত প্রযুক্তিগত আধিপত্যের মনস্তত্ত্ব। যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বের একমাত্র সামরিক পরাশক্তি হিসেবে দেখে কারণ তাদের কাছে এমন এমন প্রযুক্তি আছে যা অন্যদের নেই। কিন্তু সস্তা ড্রোনের প্রযুক্তি আজ ইরান, তুরস্ক বা চীনের হাতেও আছে। আমেরিকা যদি এই কাতারে এসে লড়াই শুরু করে, তবে তাদের একচেটিয়া আভিজাত্য বিলুপ্ত হবে। মূলত উচ্চ মুনাফা, রাজনৈতিক প্রভাব, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য- এই চারটি কারণে উচ্চ প্রযুক্তির বড় অস্ত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রহ।

তবে এর পাশাপাশি আমেরিকার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিরক্ষা শিল্প লবি অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই তারা কখনোই চাইবে না যুদ্ধের প্রকৃতি পুরোপুরি ছোট ও সস্তা অস্ত্রের দিকে ঘুরে যাক। তাদের বিনিয়োগ এখনও বড় ও জটিল প্রযুক্তিকেন্দ্রিক। সিপ্রির ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ ১০০ অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির মোট আয় ২০২৪ সালে ৬৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোর আয় ছিল প্রায় ৩৩৪ বিলিয়ন ডলার- অর্থাৎ বৈশ্বিক মোট আয়ের প্রায় অর্ধেক। লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রাম্যান, জেনারেল ডায়নামিকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকার মূল রসদ হলো বড় বাজেটের সামরিক প্রকল্প। পেন্টাগন যদি সস্তা অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে এই জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর মুনাফায় ধস নামবে।

যুদ্ধের প্রকৃতি বদলে গেলেও যুদ্ধের অর্থনীতি সবসময় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলায় না। আমেরিকা এখন এক দ্বিমুখী সংকটে রয়েছে। একদিকে রণক্ষেত্রের বাস্তবতা তাদের বলছে ছোট ও সস্তা অস্ত্রের কথা, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রভাব তাদের আটকে রেখেছে বড় ও দামি অস্ত্রের মডেলে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে আমেরিকা অনুভব করছে যে তাদের বর্তমান পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তবু তারা পিছু হটবে না। তারা ইরান যুদ্ধে (এবং অপ্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ যুদ্ধেও) উচ্চ প্রযুক্তির বড় ও দামি অস্ত্রই ব্যবহার করবে। বিশ্ব অস্ত্রবাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য টিকিয়ে রাখা তাদের কাছে যুদ্ধে জয় পাওয়ার চেয়েও জরুরি। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাই আমেরিকাকে ছোট ও সস্তা যুদ্ধাস্ত্রের মূল স্রোতে আসতে বাধা দিচ্ছে।

গবেষক ও বিশ্লেষক

এএডি/
  বিষয়:   আমেরিকা  ছোট  অস্ত্র  পথ 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: