রানআপে ছুটে আসা, তারপর হঠাৎ গতি আর বাউন্সে ব্যাটারকে অস্থির করে দেওয়া- নাহিদ রানাকে দেখলে যেন অতীতের কিছু ঝলক ফিরে আসে। সেই স্মৃতিতে কি ভেসে যান বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন তিনি। একটু থেমে যেন নিজেকেই খুঁজলেন অতীতে। এরপর তুলনা টানলেন, বললেন মিল-অমিলের গল্প, আর নিজেই টেনে আনলেন আরেক কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনিসকে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ রানার বিধ্বংসী স্পেল এখনও আলোচনায়। তীব্র গরমে ৫ উইকেট নেওয়ার পরও তার বোলিংয়ের উত্তাপ কমেনি। চট্টগ্রামে এসে সংবাদ সম্মেলনেও বারবার ঘুরে এসেছে তার প্রসঙ্গ। নিজেও বিশ্বের অন্যতম গতিময় বোলার ছিলেন টেইট। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ডেলিভারির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে তার নাম। কিন্তু চোটের কারণে ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। এখানেই তিনি নাহিদকে এগিয়ে রাখছেন নিজের চেয়ে।
নাহিদের প্রশংসা করে টেইট বললেন, ‘(নাহিদের সঙ্গে) অনেক মিল আছে, তবে কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুবই ফিট। সে আমার চেয়েও বেশি ফিট। আমি একটু বেশি ভারী ছিলাম এবং দ্রুত বল করাটা আমার জন্য একটু বেশি কঠিন ছিল, কিন্তু তার জন্য এটি একটু সহজ, কারণ সে দুর্দান্ত অ্যাথলেট। বেশ ছিপছিপে আর শক্তিশালী। ফাস্ট বোলার হিসেবে তার শারীরিক গঠন বেশ ভালো।’
আরও পড়ুন
এ ফিটনেসই কঠিন কন্ডিশনে বড় শক্তি হয়ে উঠবে বলেও মনে করেন টেইট, ‘এ কারণেই আমার আত্মবিশ্বাস আছে, বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে, যখন প্রচণ্ড গরম এবং পরপর ম্যাচ খেলতে হয়, তখন তার এই সামর্থ্যরে ওপর আমার অনেক আস্থা আছে। আমি একটু ভিন্ন ছিলাম। ওর চেয়ে একটু বেশি চোটে পড়েছি আমি।’
তবে টেইটকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে নাহিদের ইয়র্কার। সেখানেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন ওয়াকার ইউনিসের ছায়া, ‘এই সিরিজে এখন পর্যন্ত আমি যা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি, তা হলো গত ম্যাচটায় তার ইয়র্কারগুলো। ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় অনেকটা। একজন ফাস্ট বোলার এসে টপঅর্ডারে উইকেট তুলে নিচ্ছে এবং তারপর দ্রুত ইয়র্কার দিয়ে লেজের ব্যাটসম্যানদের আউট করছে, এটি দেখতে আমার দারুণ লাগে। ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার খুব পছন্দের।’
নাহিদের পাঁচ উইকেটের শেষটিও ছিল দুর্দান্ত এক ইয়র্কার। জেডেন লেনক্স সেই বলের কোনো জবাবই খুঁজে পাননি। পুরো স্পেলজুড়েই ছিল গতি, বাউন্স আর নিয়ন্ত্রণের মিশেল।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, তার অস্ত্রভান্ডারে আরও বৈচিত্র্য যোগ করা উচিত কি না। বিশেষ করে আধুনিক ক্রিকেটে স্লোয়ার ডেলিভারির গুরুত্ব অনেক।
তবে এই জায়গায় তাড়াহুড়ো করতে নারাজ টেইট, ‘আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে, ফাস্ট বোলারদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডেলিভারি করার একটা প্রবণতা দেখা যায়।
নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে সে বেশ স্মার্ট ছেলে এবং বিষয়টিকে খুব বেশি জটিল করার দরকার নেই, এই মুহূর্তে যেটি ওর কাজে লাগছে, তা চমৎকার। স্লোয়ার ডেলিভারি ওর আছে বটে, কিন্তু প্রয়োজন না থাকলে সেটি করার দরকার নেই।’
বরং তার স্বাভাবিক শক্তিকেই কাজে লাগাতে বলছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ, ‘অন্য বোলারদের অনেক বৈচিত্র্য প্রয়োজন হয়, কিন্তু নাহিদের বাউন্সার তো মারাত্মক। ১৩০ কিলোমিটার গতির বোলারের ভয়ংকর বাউন্সার থাকে না, তাদের জন্য এটি (স্লোয়ার) উইকেট নেওয়ার পথ নয়, কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো।’ গতি, ফিটনেস আর ক্রমোন্নত দক্ষতায় নাহিদ রানা হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নতুন ভরসা। আর তার বোলিংয়ে যখন টেইট খুঁজে পান ওয়াকার ইউনিসের ছায়া, তখন সেই যাত্রার সম্ভাবনাটাও হয়ে ওঠে আরও বড়।
এএডি/