বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম ও লামা উপজেলায় হামের উপসর্গে শিশু আক্রান্তের ঘটনা উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। এ দুই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। তারা হলেন- রূপসীপাড়া ইউনিয়নের চাংনাউ ম্রোর মেয়ে রাউরুং ম্রো (৬), একই এলাকার চাকনাও ম্রোর ছেলে ইয়ংরিং ম্রো (৫), ইয়ংরিং ম্রো (১১), আলীকদমের পোয়ামুহুরী এলাকার সাকাতি পাড়ার তাংকুই ম্রো (৭) এবং রুইতন পাড়ার রুইয়াং ম্রো (৭)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম।
অন্যদিকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৪ জন ম্রো শিশু ভর্তি রয়েছে। তারা সবাই কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ডা. মো হানিফ চৌধুরী।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, গত পরশুদিন রুইতন পাড়ার বাসিন্দা পাসং ম্রোর ১০ বছর বয়সী মেয়ে ওমুম ম্রো চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে মারা যায়। এর আগে একই উপসর্গে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রুইতুম পাড়ায় একজন এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রিংলক পাড়ায় দুইজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এলাকাবাসী আগে এই রোগকে হাম বা সংক্রামক রোগ হিসেবে চিনতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
এছাড়া আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ইয়াংরিং পাড়ায় অবস্থিত ‘প্লেননই হোস্টেল’ এ প্রায় ১৫০ জন ম্রো শিশুর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন ইতোমধ্যে হামের উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াংথাং ম্রো বলেন, এলাকায় কোনো শিশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য আলীকদম সদর হাসপাতালে নিতে হয়। যেখানে যাতায়াত খরচ প্রায় ৬০০ টাকা। এছাড়া মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে যানবাহন ডাকার সুযোগও সীমিত। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম জানান, জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও দাগ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আগের তুলনায় উন্নতির দিকে। সম্ভাব্য নতুন রোগী আসার আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, আলীকদম ও লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া একটি মেডিকেল টিম ইতোমধ্যে দুর্গম এলাকায় পাঠানো হয়েছে। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া না গেলেও পরে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জোই