ভোগাইয়ের ভাঙনে দুর্ভোগ নদীপাড়ের বাসিন্দাদের

মনিরুল ইসলাম মনির, শেরপুর

সারাদেশ

ভোগাইয়ের অব্যাহত ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের নকলা উপজেলার দুটি গ্রাম। প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে এ উপজেলার বেনিরগোপ ও পিছলাকুড়ি অংশের

2026-04-24T18:24:55+00:00
2026-04-24T18:26:33+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ভোগাইয়ের ভাঙনে দুর্ভোগ নদীপাড়ের বাসিন্দাদের
মনিরুল ইসলাম মনির, শেরপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৪ পিএম  আপডেট: ২৪.০৪.২০২৬ ৬:২৬ পিএম
ভোগাইয়ের অব্যাহত ভাঙন। ছবি : সময়ের আলো
ভোগাইয়ের অব্যাহত ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে শেরপুরের নকলা উপজেলার দুটি গ্রাম। প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলের তোড়ে এ উপজেলার বেনিরগোপ ও পিছলাকুড়ি অংশের বেশকিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমিসহ গাছপালা বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। হারিয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের একটি অংশও। অথচ নদীর তীর রক্ষা বা বেড়িবাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ নেই সরকারের।

জানা গেছে, ভারতের গারোপাহাড় বিধৌত নদী ভোগাই নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলার বুক চিরে মিশে গেছে হালুয়াঘাটের কংশ নদে। প্রতিবছর বর্ষায় ভোগাইয়ে তীব্র স্রোতে নামে পাহাড়ি ঢল। ওই ঢলে নদীর দুই তীরে বিভিন্ন অংশে দেখা দেয় ভাঙন। অব্যাহত এ ভাঙন থেকে রেহায় পায় না বেনীরগোপ, পিছলাকুড়ি ও দক্ষিণ কোন্নগর গ্রামের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেনীরগোপ গ্রামের একটি বসতি নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। নদীর পূর্ব তীরে থাকা এ বসতির ভিটেমাটি, আবাদী জমি ও গাছপালা প্রতিবছরই গিলে খাচ্ছে খরস্রোতা ভোগাই। নদীর পূর্ব তীরের অন্তত ৫শ মিটার জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অথচ সরকারের দায়িত্বশীল কোন দফতর নদী শাসনে নেয়নি কোন উদ্যোগ।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবীর প্রেক্ষিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাড়ে পাঁট টন জিআর চলের বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই বরাদ্দে নদী তীরের কিছু অংশে বালুভর্তি জিওট্যাক্স এর বস্তা ফেলে আপদকালীন প্যালাসাইডিং নির্মাণ করেন স্থানীয়রা। এর ফলে নদীর সামান্য অংশ সাময়িক রক্ষা হলেও আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ি ঢল নামলেই তা ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বেনীরগোপ গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল ও ইসমাইলসহ স্থানীয়রা জানান, বাপ-দাদার ভিটেমাটি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হচ্ছে। কিন্তু নদীর তীর রক্ষায় কেউ উদ্যোগ নেয় না। এ বছর জিআর এর বরাদ্দ দিয়ে নদীর কিছু অংশে প্যালাসাইডিং করা হয়েছে। কিন্তু এ দিয়ে নদীর তীর রক্ষা সম্ভব নয়। এখানে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দরকার।

নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম জানান, স্থানীয়দের ভোগান্তির কথা ভেবে জিআর এর বরাদ্দ দিয়ে নদীর সামান্য অংশে প্যালাসাইডিং করা হয়েছে। আসলে নদীতে প্যালাসাইডিং বা বাঁধ নির্মাণের মতো বরাদ্দ বা সক্ষমতা আমাদের নেই।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি যোগদানের পর ভোগাই নদীর বেনীরগোপ ও পিছলাকুড়ি ভাঙন অংশ পরিদর্শন করেছি। ওইসব অংশে বাঁধ নির্মাণ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। এছাড়াও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে একাধিকবার বলেছি।

তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধে দ্রুত একটি প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। আশাকরি, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: