রাজশাহী অঞ্চলে আমের ভালো ফলনের আশা

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে ইতোমধ্যে উঁকি দিচ্ছে আম। আরও মাসখানেক পর বাজারে উঠবে এ মৌসুমের ফল। গেলবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে

2026-04-24T20:00:50+00:00
2026-04-24T20:00:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা
রাজশাহী অঞ্চলে আমের ভালো ফলনের আশা
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ পিএম 
রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে ইতোমধ্যে উঁকি দিচ্ছে আম। ছবি : সময়ের আলো
রাজশাহী অঞ্চলের গাছে গাছে ইতোমধ্যে উঁকি দিচ্ছে আম। আরও মাসখানেক পর বাজারে উঠবে এ মৌসুমের ফল। গেলবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে আশাবাদী চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিভাগও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলনের আশা করছে। এদিকে বাগান মালিকরা গাছের পরিচর্যা ও পোকামাকড় দমনে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলে মোট ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এতে গাছের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি। চলতি মৌসুমে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গেল মৌসুমে ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে অনেক আম নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দাম কমে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন চাষিরা। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেকেই লোকসান গুনেছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার শুরু থেকেই বাগান পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বাগানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ সেচ দিচ্ছেন, কেউ পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে স্প্রে করছেন। কৃষকদের মতে, ভালো ফলনের জন্য তিন মাসে অন্তত ৬ থেকে ৭ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।

আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। প্রাকৃতিক কারণে অনেক মুকুল ঝরে গেছে। যেগুলো টিকে ছিল, সেখান থেকে আম এসেছে। তবে প্রচণ্ড খরা ও পোকার আক্রমণে গুটি ঝরে পড়ছে। পানি ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে গুটি রক্ষা করা যাচ্ছে না। প্রতি বছরই কিছু গুটি ঝরে পড়ে বলে জানান তারা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজশাহীতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। গত দুই সপ্তাহে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে গড় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রয়েছে।

রাজশাহী জেলার অধিকাংশ আমবাগান চারঘাট ও বাঘা উপজেলায়। বাঘা উপজেলার সাদি এন্টারপ্রাইজ কয়েক বছর ধরে বিদেশে আম রপ্তানি করছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আসাফুদ্দৌলা বলেন, এ বছর মুকুল ভালো এসেছে, পরিচর্যাও করা হয়েছে। যেগুলো ঝড়ে যাওয়ার, তা ঝড়ে গেছে। এখন গাছে থোকা থোকায় আম রয়েছে। তবে তাপমাত্রা বেশি থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি মাছি পোকা ও লেদা পোকার দমনে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার আমচাষি তৌহিদুর রহমান পারভেজ বলেন, প্রচণ্ড গরমে আম শুকিয়ে যাচ্ছে, কিছু কালো হয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমণে আম ঝরে পড়ছে। এতে ফলন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে তাপমাত্রা কমলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তিনি।

পুঠিয়া উপজেলার বিহারীপাড়া গ্রামের আসিফ ইকবালের ৩০ বিঘার বাগানে দেশি-বিদেশি ৭২ জাতের আম রয়েছে। তিনি বলেন, হপার, আচা ও ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ক্ষতি হচ্ছে। অতিরিক্ত খরার কারণে গাছেই আমের বোটা শুকিয়ে যাচ্ছে। তবে যারা সঠিক সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ করছেন, তাদের বাগানে এখনো ভালো ফল রয়েছে।

পবা উপজেলার কয়রা গ্রামের কৃষক সিরাজুল হক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ভালো ফলন হবে। প্রায় সব গাছেই আম এসেছে।

রপ্তানিতেও ইতিবাচক ধারা রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জার্মানি, ইংল্যান্ড, সুইডেন, ইতালি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার আম রপ্তানি হয়েছে। প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য ছিল ৯৩ টাকা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ১০ লাখ ২৮ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখ ২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টনে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি গড়ে ৯৩ টাকা দরে মোট সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১১ হাজার ১৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বলেন, তাপদাহে কিছু আম নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক হলেও সার্বিকভাবে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার ফলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।


  বিষয়:   রাজশাহী  আম  পোকামাকড়  দমন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: