সাতক্ষীরায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু ডায়রিয়া রোগী। প্রতিদিন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ দিনে এ তিনটি প্রতিষ্ঠানে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার, সদর হাসপাতালে ৫৭৭ এবং বেসরকারি শিশু হাসপাতালে ১৪১ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু বহির্বিভাগেও চিকিৎসা নিচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশুদের ভিড় বাড়ছে। তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের গৃহবধূ পাপিয়া খাতুন তার ১০ মাস বয়সী ছেলে মোছাব্বির হোসেনকে ভর্তি করেছেন এখানে। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর এবং অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মূলত স্যালাইন ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান শহরের মুনজিতপুর এলাকার ময়না খাতুন। তার ১১ মাস বয়সী ছেলে আররায়হান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে সদর হাসপাতালে। তিনিও জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সামছুর রহমান বলেন, মার্চ-এপ্রিল থেকে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এতে ডায়রিয়া ছাড়াও জ্বর ও বমি হয়। তিনি শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পচা-বাসি খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখার কথাও বলেন তিনি।
তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান বলেন, শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে।