যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন কর্তৃক প্রকাশিত এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত এ র্যাংকিং অনুযায়ী, এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০০ ধাপ এগিয়ে ৩০১-৩৫০ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে এর অবস্থান ছিল ৪০১-৫০০-এর মধ্যে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এ র্যাংকিংয়ে এশিয়ার ৩৬টি দেশের মোট ৯২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে, যা জাতীয় উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
র্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সূচকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক স্কোর গত বছর ছিলো ৩১.৫-৩৪.৩। এ বছর তা বেড়ে ৩৮.৩-৪০.১-এ উন্নীত হয়েছে। এছাড়া, গবেষণার পরিবেশ সূচকে ১২.০ থেকে বেড়ে ১৫.৭, গবেষণার মান সূচকে ৫৮.৮ থেকে বেড়ে ৭৪.৩ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সূচকে ২১.৪ থেকে বেড়ে ৩৩.২ হয়েছে।
এই অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
র্যাংকিংয়ে সাফল্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং ২০২৬-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। র্যাংকিংয়ে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০০ ধাপ অগ্রগতি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গবেষণা-নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মান অর্জনের নিরলস কাজের স্বীকৃতি বহন করে।
উপাচার্য বলেন, গবেষণার মান, গবেষণা পরিবেশ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সূচকে বিশেষ যে উন্নতি হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।
সময়ের আলো/জেডআই