পবিত্র মক্কা শহরের অনন্য মর্যাদা

নূর মুহাম্মদ রাহমানী

ইসলাম

পৃথিবীতে যত স্থান আছে তন্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম স্থান হলো মক্কা ও মদিনা। এই শহরে অবস্থিত পবিত্র মসজিদে হারাম। এটি পৃথিবীর

2026-04-24T22:44:09+00:00
2026-04-24T22:44:09+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
পবিত্র মক্কা শহরের অনন্য মর্যাদা
নূর মুহাম্মদ রাহমানী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম 
পবিত্র মক্কা শহরের অনন্য মর্যাদা। ছবি : সংগৃহীত
পৃথিবীতে যত স্থান আছে তন্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম স্থান হলো মক্কা ও মদিনা। এই শহরে অবস্থিত পবিত্র মসজিদে হারাম। এটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম নির্মিত মসজিদ। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি জিগ্যেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে? তিনি বললেন, মসজিদে হারাম। আমি জিগ্যেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, মসজিদে আকসা’ (বুখারি : ৬/৪৫৮)। এই মসজিদে এক রাকাত নামাজের সওয়াব এক লাখ রাকাতের সমপরিমাণ। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার এই মসজিদে (মসজিদে নববী) এক রাকাত নামাজ আদায় করা মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার রাকাত নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম, আর মসজিদে হারামে এক রাকাত নামাজ আদায় করা মসজিদে নববী ব্যতীত অন্য যেকোনো মসজিদে এক লাখ রাকাত নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩/৩৪৩)

এই শহর অন্যান্য শহরের মতো নয় যে, সেখানে যা ইচ্ছা তা করা যাবে। এর রয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা এই শহরের জন্য হারাম করে দিয়েছেন (সম্মানিত করেছেন) না এই হারামের পাতা কাটা যাবে, না শিকারি দেখানো যাবে, না পড়ে যাওয়া বস্তু কুড়ানো যাবে, তবে যে হারানো বস্তুর ঘোষণা দেবে সে ব্যতীত’ (বুখারি : ১/২১৬)। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত অপর হাদিসে এসেছে, নবী করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এই শহরকে হারাম করে দিয়েছেন যখন থেকে তিনি আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই নগরী হারাম থাকবে আল্লাহ হারাম করার দ্বারা কেয়ামত পর্যন্ত। আমার আগে কারও জন্য এখানে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল না। আমার জন্যও বৈধ নয়, তবে দিনের কিছু সময় বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। এখন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তা হারাম হিসেবে থাকবে’ (মুসলিম : ১/৪৩৭)। উল্লেখিত হাদিসে হারাম অর্থ সম্মান, অর্থাৎ মক্কা শরিফ হারামের সীমানা সৃষ্টির প্রথম থেকে সম্মানিত। তাতে কোনো ধরনের পাপের কাজ করা যাবে না।

পবিত্র মক্কা জ্ঞানের শহর। এটা এমন এক বরকতপূর্ণ শহরের নাম যেখান থেকে ইসলামের আলো প্রজ্বলিত হয়েছিল এবং সেখানেই এসে শেষ হবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্বল্পসংখ্যক ও অপরিচিত অবস্থায় ইসলামের সূচনা হয়েছিল, অচিরেই তা আবার সূচনালগ্নের ন্যায় গরিবি অবস্থায় ফিরে আসবে এবং তা উভয় মসজিদের (মক্কা ও মদিনার) মধ্যবর্তী এলাকায় গুটিয়ে আসবে যেমন সাপ তার গর্তের দিকে গুটিয়ে আসে।’ (মুসলিম : ১/১৩৩) পবিত্র এ শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। 

তার নৈরাজ্য ও অরাজকতা থেকে মক্কা নগরী নিরাপদ থাকবে। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এমন কোনো শহর নেই, যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না, তবে মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারা ছাড়া। কেননা মক্কা ও মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারারত থাকবেন। তারপর মদিনা শরিফ তিনবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠবে। এতে সেখান থেকে সব কাফের ও মুনাফিক বের হয়ে যাবে’ (বুখারি : ১৮৮১)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে সঠিক পদ্ধতিতে সপরিবারে মক্কা-মদিনা জিয়ারত করার তওফিক দান করুন।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   মক্কা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: