চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে রহস্যজনকভাবে সরকারি বরাদ্দের ১২ বস্তা চাউল উধাও হওয়ার ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিষদ বন্ধ করার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত এ ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের ‘ভি.ডব্লিউ.বি’ প্রকল্পের আওতায় গত ২১ এপ্রিল হারদী ইউনিয়নের জন্য ১৩৮ বস্তা (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি) পুষ্টি চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাউল ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
প্রতিদিনের মতো ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে পরিষদ বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্তরা চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাত্রিকালীন ডিউটিতে থাকা গ্রাম পুলিশ দফাদার সাইফুল ইসলাম ও চৌকিদার টারজার আলী এসে হলরুমের সামনে চাউল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে হলরুম খুলে তারা দেখতে পান, ভেতরে চাউলের বস্তাগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।
খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু, ইউপি সদস্য শেখ শাহানুর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বস্তা গণনা করে দেখা যায়, ১২ বস্তা চাউল উধাও।
এরপর স্থানীয়দের তৎপরতায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হারদী মহনপাড়া গ্রামের নাজের মন্ডলের বাঁশবাগানের সামনে থেকে দুই বস্তা চাউলসহ নাঈম আলী (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। সে ইউনিয়ন পরিষদ পাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে। তবে বাকি ১০ বস্তা চাউল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, একটি তালাবদ্ধ সরকারি ভবনের ভেতর থেকে এত বড় পরিমাণ চাউল চুরি হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি নিছক চুরি, নাকি ভেতরের কারও যোগসাজশ আছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, চুরি হওয়া ১২ বস্তা চাউলের মধ্যে দুই বস্তা উদ্ধারসহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চাউল উদ্ধার এবং মূলহোতাদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি সহায়তার চাউল নিয়ে এমন রহস্যজনক চুরির ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।