চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের একটি ঘটনাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হামলা বলে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের খেলাফতে মজলিস থেকে প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী ইমরান ইসলামাবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারা শাখার নেতৃবৃন্দ। এর আগে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ইমরান ইসলামাবাদী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোর জুলুম করে প্রত্যাহার করানোর পর, অবশেষে আমাকে আহত করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার দায়িত্বশীলদের কাছে বিচার চাই। এই জুলুমের শেষ কোথায়? ন্যায় ইনসাফের বিচার কি এই দেশে হবে?
তবে ঘটনাটি অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। ইমরান ইসলামাবাদীর বড় ভাই জাকারিয়া জানান, পারিবারিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে ইমরান পরিবারসহ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শুক্রবার তাদের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইমরান লোকজন নিয়ে এসে ঝামেলা সৃষ্টি করেন এবং তার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে তিনি বিষয়টিকে জামায়াতের হামলা হিসেবে প্রচার করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাকারিয়া আরও বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টিও পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল। পরিবারের অসম্মতি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোতালেব জানান, ইমরানদের বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠান চলছিল। ওই সময় ইমরান এসে তার ভাইদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিই। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা ছিল না।
ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা যায়, ইমরান ঘরে প্রবেশ করে তার ভাইদের দিকে তেড়ে গেলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারা শাখার সভাপতি মাস্টার আব্দুল গনি বলেন, পারিবারিক জায়গা-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।