পাঁচটি কবিতা

উপল বড়ুয়া

সাহিত্য

মহাপুরুষদের জঙ্গলেপাখিদের কথা কখনো বিশ্বাস করো নাএই ধরো আমি—পাখির ডাক শুনতেশুনতে ঢুকে পড়েছি জঙ্গলে। তারপরযথারীতি হারিয়ে যাওয়া মানুষের মতোপথ হারিয়ে

2026-04-25T19:58:00+00:00
2026-04-25T21:50:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
পাঁচটি কবিতা
উপল বড়ুয়া
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম  আপডেট: ২৫.০৪.২০২৬ ৯:৫০ পিএম
পেইন্টার : এগন শিয়েল ডিজাইন : সময়ের আলো
মহাপুরুষদের জঙ্গলে

পাখিদের কথা কখনো বিশ্বাস করো না
এই ধরো আমি—পাখির ডাক শুনতে
শুনতে ঢুকে পড়েছি জঙ্গলে। তারপর
যথারীতি হারিয়ে যাওয়া মানুষের মতো
পথ হারিয়ে ছুটছি দিগ্বিদিক। অথচ
জঙ্গলে পাতার স্তুপ ছাড়া কিছুই নেই
আর প্রতিটি স্তুপে বসে রামায়ণ লিখছেন
বাল্মিকী। কেন যে মহাপুরুষেরা শুধু বনে
যায়, পর্বতে যায়—হিমালয়ের ঠাণ্ডায় 
কাঁপতে থাকে ধ্যানে। এসব ভাবতে 
ভাবতে ঘুরছি জঙ্গলের চক্রব্যুহতে
এই কারণে পাখিদের কথা বিশ্বাস করতে
নেই। তাদের ডাক তোমাকে কখন জঙ্গলে
এনে ফেলবে, বুঝতেই পারবে না।

ভগবান টিলা-২

ভগবান টিলায় উঠলে দেখবেন এক 
বর্ষীয়ান বুড়িকে। ওখানেই থাকেন
পথচারী দেখলে পানি এগিয়ে দেন
ভগবান টিলা থেকে আরও কয়েক
টিলা ও কলাবাগান পেরোলে পাবেন
সোনাইছড়ি। চারদিকে ঘন সবুজ
প্রাণ ঠাণ্ডা হয়ে আসে, এমন প্রকৃতি
আর চারদিকে ছোট ছোট ঘরবাড়ি
জানি না কেন, ওখান থেকে ফেরার
পথে লোকে আমাদের দিকে তাকিয়ে
হাসে। ডাকে—‘ভবঘুরে ও মাতাল’।

লালু

অংদের গ্রামে এলাম। তিনটে পাহাড় বেয়ে
ওদের বাড়ি। বাড়ির সামনে একটি ঝাঁকড়া
তেঁতুল গাছ। তার ছায়ায় জিড়োয় লালু
সারাদিন এই তার কাজ। এছাড়া হাঁসগুলোকে
চরায়, মুরগীর খোঁয়াড়ের দরজা খুলে দেয়
অতিথি এলে তাদেরও পথঘাট চেনায়।
তিনটে পাহাড় বেয়ে সে কী অনায়াসে
উঠে যায়! এখানের কেউ লালুকে কুত্তা 
ডাকে না। অংদের কাছে সে ভাতৃসম 
তবে দোচুয়ানি খেলে সে নিজেই সবাইকে
ঘেউ ঘেউ করে গালাগালি দিয়ে পাড়া 
মাথায় তোলে।

অবজ্ঞা

সূর্যকে কখনো কখনো মারমা মেয়ের স্তন বলে ভ্রম হয়। সম্মুখে স্থির দাঁড়িয়ে থাকলেও তুমি তার দিকে অপলক তাঁকিয়ে থাকতে পারবে না। পাহাড় বেয়ে বেয়ে উঠতে উঠতে এসব ভাবছিলাম। অকস্মাৎ কয়েক হাজার পাখি ডাকতেই সম্বিৎ ফিরে এলো। যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি, দেখি—ঝর্ণার জলে পাহাড়ী মেয়েদের স্নান। অথচ তোমাদের দেখে তারা ঘুরেও তাঁকাল না। এমনই সে অবজ্ঞা। 

শিকারি

প্রতিটি জঙ্গলে একটি বাঘ থাকে, হরিণ থাকে এক জোড়া। পাখি অগণিত আর শিকারি এক ঝাঁক। সেই বাঘ প্রতিদিন ঘাসের বনে লুকিয়ে ওঁত পেতে থাকে শিকারের আশায়। হরিণ দুটি মহুয়া ফুল খেতে আসে একবেলা। মাদীটা দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়, মর্দাটা খায়। আশ্চর্যের বিষয়, বাঘ ধাওয়া করে না তাদের। তারপরও হরিণ পালিয়ে যায়। খুরের শব্দে পাখিরা ডেকে উঠে বিকট। শিকারিরা গুলি ছোড়ে।


  বিষয়:   কবিতা  সাহিত্য  উপল  বড়ুয়া 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: