ওমান সাগরে মার্কিন বাহিনী ইরানি যে বাণিজ্যিক নৌযানটি জব্দ করেছে সেটি রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালাইসিস সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহন করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির জাতিসংঘ মিশন। তুস্কা নামের ওই জাহাজটি বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়ার পথে গত ১৯ এপ্রিল মার্কিন বাহিনীর হাতে পড়ে বলে ইরানি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও নিশ্চিত করেছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে তেহরান টাইমস বলছে, ওই নৌযানটি ডায়ালাইসিস চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে আসছিল। এমন নৌযানকে জব্দ করা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমতুল্য এবং এটি বিপুলসংখ্যক অসহায় রোগীর জীবনও বিপন্ন করেছে, এক্সে শেয়ার করা বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরান মিশনও এক কড়া বিবৃতি দিয়েছে। বলেছে, জাহাজটি যখন জব্দ করা হয় এবং এর ক্রুদের হেফাজতে নেওয়া হয় সে সময় নৌযানটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালাইসিস সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহন করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে অনেক রোগীই গুরুতর বিপদে পড়েছে; আন্তর্জাতিক জলপথে নৌচলাচলের অধিকারও খর্ব হয়েছে।
‘এর জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে,’ বলেছে মিশন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড নৌযানটিকে জব্দ করার কথা জানালেও সেখানে থাকা কনটেইনারগুলোতে কী কী আছে সে সম্বন্ধে প্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত কিছু বলেনি। অভিযান চলার সময় নৌযানটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল, জানায় সেন্টকম।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, নৌযান তুস্কায় চীনের পাঠানো ‘একটি উপহার ছিল’। জাহাজটিতে নিষিদ্ধ অনেক উপকরণ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এর আগে সাবেক মার্কিন দূত নিকি হ্যালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছিলেন, তুস্কার সঙ্গে চীন ও ইরানের মধ্যে হওয়া সংবেদনশীল কার্গো চালাচালির যোগসাজশ আছে। তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।
‘সাধারণ বাণিজ্য সম্পর্কে কখনো হস্তক্ষেপ বা রাজনৈতিক বিঘ্ন ঘটানো উচিত নয়,’ বলেছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন। ‘বাস্তব প্রমাণের অভাব রয়েছে এমন কোনো দাবি বা জল্পনা-কল্পনা চীন প্রত্যাখ্যান করছে।’
সময়েল আলো/আআ