বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা থেকে চেংঙ্গুটিয়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে কাঁদার স্তুপ তৈরি হওয়ায় সড়কটি এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন অসুস্থ রোগী, সাধারণ পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
এই সড়ক দিয়ে চেংঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চেংঙ্গুটিয়া আলিয়া মাদ্রাসা, ভাংগা মাদ্রাসা, রাংতা মাদ্রাসা, আগৈলঝাড়া সরকারি কলেজ ও সরকারি গৌরনদী কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। পাশাপাশি আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য পাঁচ গ্রামের মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
চেংঙ্গুটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিরিন সুলতানা বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের এই রাস্তায় চলাচলে খুবই অসুবিধা হয়। তারা প্রায়ই হোঁচট খেয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই এ সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যান প্রায়ই খাদে পড়ে উল্টে যায়, এতে আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চেংঙ্গুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এই সড়ক দিয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করে। বর্ষায় এখানে পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় কাঁদা মাড়িয়ে বাজারে গিয়ে তবেই যানবাহনে উঠতে হয়।
ভ্যান চালক আব্দুর গফুর হাওলাদার বলেন, খানাখন্দ আর কাঁদার কারণে গাড়ির চাকা পাংচার হয়, কন্ট্রোল বক্স ও মোটর বারবার নষ্ট হচ্ছে। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সড়কটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। আগামী জুন মাস নাগাদ সড়কটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।