কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে ৭৭ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঝালকাঠি শহরের বাসন্ডা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘আকলিমা-মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ’-কে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উপস্থাপন করে নামে-বেনামে ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে লোপাটের

2026-04-26T23:55:20+00:00
2026-04-27T00:00:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে ৭৭ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম 
আকলিমা-মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ। ছবি : সময়ের আলো
ঝালকাঠি শহরের বাসন্ডা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘আকলিমা-মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ’-কে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উপস্থাপন করে নামে-বেনামে ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঝালকাঠি জেলা পরিষদ থেকে ক্ষমতার প্রভাবে এসব বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু ২০১২ সালে তার মা-বাবার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই জমি দখলসহ নানা বিতর্কে জড়িত এ প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে রয়েছে গুরুতর অসংগতি।

নথিপত্রে কলেজটির নাম একাধিকবার পরিবর্তন করে কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন ডিগ্রি কলেজ’, কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন কলেজ’ আবার কখনো ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উচ্চতর প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এডিবির বিশেষ বরাদ্দ থেকে মসজিদ উন্নয়নের নামে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এছাড়া বাকি প্রায় ৬২ লাখ টাকা বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল, সাইকেল স্ট্যান্ড ও শহীদ মিনার নির্মাণের নামে ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গেইট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে একই প্রকল্পকে ‘সীমানা প্রাচীর’ দেখিয়ে পুনরায় অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ’ নামে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে শহীদ মিনার নির্মাণে ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও অডিটে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পরে ২০২২ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।

এছাড়া মোটরসাইকেল ও যানবাহনের শেড নির্মাণে ৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে একটি সাধারণ খোলা কক্ষ দেখা গেছে, যার টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন দিয়ে।

২০২০-২১ অর্থবছরে মাঠ ও ডোবা ভরাটের নামে আবারও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে ‘আকলিমা মোয়াজ্জেম হোসেন জামে মসজিদ’ উন্নয়নের নামে আরও ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও জেলার কোথাও ওই নামে কোনো মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জেলা পরিষদের একাধিক নথি স্টোররুম থেকে গায়েব হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুশি রাখতেই তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এ ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, এখন থেকে কোনো ভুয়া প্রকল্প বা ভৌতিক বিল পাস করা হবে না। যাচাই-বাছাই করেই অনুমোদন দেওয়া হবে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


  বিষয়:   ঝালকাঠি  শহর  বাসন্ডা  আকলিমা  মোয়াজ্জেম  হোসেন  ডিগ্রি  কলেজ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: