আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সুন্দর অবয়ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এতে কৃত্রিম উপায়ে বিকৃতি সাধন করা বড় গুনাহ। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হয় এমন যেকোনো কাজই গুনাহের কাজ।
প্রাচীন যুগ থেকেই এমন একটি বিকৃত সৌন্দর্য চর্চা করে আসছে কিছু মানুষ। শরীরের চামড়ায় সুঁই বা এ জাতীয় তুলির সাহায্যে ক্ষত সৃষ্টি করে উল্কি বা ট্যাটু আঁকা হয়। এটা সাধারণত মুশরিক নারীরা বেশি করত। হাদিসেও এ ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে।
হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এমন সব নারীর ওপর অভিসম্পাত করেছেন, যারা অঙ্গে উল্কি আঁকে ও অন্যকে দিয়ে উল্কি আঁকায় এবং সৌন্দর্যের জন্য ভ্রুর চুল উপড়িয়ে আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে (তিরমিজি : ২৭৮২)।
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘যেসব নারী নকল চুল ব্যবহার করে, যারা অন্য নারীকে নকল চুল এনে দেয় এবং যেসব নারী উল্কি অঙ্কন করে ও যাদের জন্য করে, রাসুল (সা.) তাদের অভিশাপ দিয়েছেন’ (তিরমিজি : ১৭৫৯)।
হাদিসে নারীদের নির্দিষ্ট করে বলার কারণ হলো, আগেকার যুগে নারীরাই সাধারণত উল্কি আঁকত। কিন্তু বর্তমানে নারীদের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মাঝেও উল্কি আঁকার প্রচলন শুরু হয়েছে। বরং বলা যায় এখন নারী-পুরুষ উভয়েই এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত!
আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, অমুসলিমদের দেখাদেখি মুসলমানদের মধ্যেও কিছু অবুঝ লোক পবিত্র কালেমাসহ কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন বাণী ট্যাটু আকারে নিজেদের শরীরে আঁকছে! তারা হয়তো ধারণা করছে যে তারা হালাল ট্যাটু আঁকার মাধ্যমে ইসলামি পদ্ধতিতে নিজেদের শখ পূরণ করছে। নিজেদের সুন্দর দেহটিকে আরও সুন্দর করে সাজিয়ে নিচ্ছে।
অথচ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম কাঠামো দিয়ে’ (সুরা ত্বিন : ৪)। মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট করে কৃত্রিমভাবে এ ধরনের বিকৃত সৌন্দর্য সৃষ্টি করার অপচেষ্টা ইসলামে নিষিদ্ধ ও গর্হিত। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরে ট্যাটু বা উল্কি আঁকা অবৈধ কাজ। মহান আল্লাহ এ ধরনের কাজ করা থেকে সবাইকে বিরত রাখুন, যার ওপর প্রিয়নবী (সা.) অভিসম্পাত করেছেন।
এফআর