চারটি কবিতা

ফারিয়া মতিন ইলা

সাহিত্য

ক্রমশঃনিকটস্থ মৃত্যুর কাছাকাছি শুয়েনা দেখা সরু একটা নদীর ছবি ভেসে ওঠে মনের ভেতর।রিনরিনে সরু যত চুড়ি অথবা মেমোরিআর সফিস্টিকেটেড শব্দভান্ডারক্রমশই

2026-04-27T00:05:47+00:00
2026-04-27T00:05:47+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
চারটি কবিতা
ফারিয়া মতিন ইলা
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ক্রমশঃ

নিকটস্থ মৃত্যুর কাছাকাছি শুয়ে 
না দেখা সরু একটা নদীর ছবি ভেসে ওঠে মনের ভেতর।
রিনরিনে সরু যত চুড়ি অথবা মেমোরি 
আর সফিস্টিকেটেড শব্দভান্ডার 
ক্রমশই ফুরিয়ে আসে। 

বুঝেছি, শব্দ ফুরোলে নদীমুখী হতে হয়। 

বর্ষাবসান

এই অশান্ত দিনে
অশান্ত আকাশের নিচে
এক অশান্ত মন নিয়ে
শুধু তোমার সামনেই দাঁড়াতে পারি।

বিকট স্বরে আকাশের চিৎকার 
আর উত্তাল ঢেউয়ে আমি দিশা হারিয়ে ফেলি
আকাশে মেঘ!
তুমি নাও, ঘুম যাই অথবা চেয়ে থাকি
শুধু ঝড় শেষ হউক। 

শূন্য বুকে ভেসে আছি, 
তারা দেখা যাক একটু করে
সাঁতরে পার হতে কোনো অভিযোগ নেই জানোই, 
শুধু আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসুক 
আমি চেয়ে আছি। 

অনির্বাণ

সমস্ত কিছুর পরে যখন মনে হয় 
চেয়েছিলাম নির্বাণ, বৃক্ষের মত
শ্রান্তির পরেরটুকু 
তখনই দেখে ফেলি দেয়ালে চড়ে বেড়ানো একটি টিকটিকি। 

পথ হতে গিয়ে দেখি জুতো ও জীবনের ক্ষয় 
অর্থহীনতার ভেতর যে ফাঁকা শব্দ, 
বুলেটের মত তেড়েফুঁড়ে ঢুকে যায় বুকের ভেতর 
সে বাতাস বুক খালি করে দেয় প্রতি স্রোতে। 
সে বাতাসে দোল খাওয়া পথিকের তরে যে বৃক্ষ, 
সে বৃক্ষটিই হতে চেয়েছি আমি।

অন্তরঙ্গতার ভেতর যে একাকীত্ব  
আর অস্ফুট নগ্নতা, হে মাটি, হে মা
আমাকে নাড়ী ছেঁড়া করো 
আমাকে ভিন্ন করো আরো।
মরুর বুকের উপর অনন্তকাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা 
সে বৃক্ষ করো আমাকে।
উত্তাল ঢেউয়ের ভেতর ছুটে বেড়ানো পথিক
আর শ্বাশত সবুজের যে যোগ তা শুধু কেবল চাইতেই পারি বলে। 

লেস অফ আ জার্নাল-২

মানুষ দেখতে বড় আরাম লাগে। 
কত মানুষ কত ধরনের ভোকাবুলারি, 
কত ধরনের এক্সপ্রেশান! 
মনে হয় একটু একটু করে শিখি, আরে এমনেও তো হয়!
আমি কেন কখনো এইটা বলতে চাইয়াও বলতে পারি নাই
তারচে ইম্পর্ট্যান্ট হয় তখন সেই এক্সপ্রেশান।
সেইটা হইতে পারে কাঠবিড়ালির চোখ দেইখা ফেলা, 
অথবা পরিষ্কার বিছানার চাদরে শুইতে বেশি আরাম এরকম কিছু। 

বৃষ্টির পর গাছ ঝাকায়ে আবার বৃষ্টি বানানোর খেলাটা মনে হয় সবাই জানে।
আড়ষ্টতা ভাঙায়ে আমি আর সবার মত হাসতে পারি না,
কাঠবিড়ালির চোখ দেইখা ফেলার মত নরোম ব্যাপার স্যাপার বুঝতে পারি অন্য কেউ করলে
ভালোবাসা, অভিমান সবের ক্ষেত্রেই তাই। 
এত এত তর্কবিতর্কের মধ্যে আমি বলতে পারিনা এক পুকুর ভরা পানি দেখলে আমার কেমন আনন্দ হয়।
আমি আড়ষ্ট হয়ে থাকি।
আমি শুধু হাসতে পারি বড়জোর
বুঝাইতে পারিনা, গলার ঢোক বুকের মধ্যে আটকায়ে রাখি মতন।
ভাগ্যিস খোদা আমার গলায় সুর দিসিলেন!
নাইলে কী বেদনাময় জীবনটাইনা আমার পার করা লাগতো! 


  বিষয়:   সাহিত্য  কবিতা  ফারিয়া  মতিন  ইলা 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: