লম্বা বিরতির পর টি-টোয়েন্টিতে ফিরছে বাংলাদেশ, আর সেই ফেরাটা শুধুই ফলের জন্য নয়- নতুনদের যাচাই, দল গড়া আর ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরির মিশন নিয়েই মাঠে নামছে টাইগাররা। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ সামনে রেখে অধিনায়ক লিটন দাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই সিরিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর উন্নয়নই হবে মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে অনভিজ্ঞ স্কোয়াড নিয়েও আত্মবিশ্বাসী কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম, যিনি মনে করছেন টি-টোয়েন্টির অল্প সময়েই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে তার দল।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-টোয়েন্টিতে নামছে বাংলাদেশ। তবে স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এনে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে। এতে সুযোগ তৈরি হয়েছে নতুন মুখ আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মণ্ডলের জন্য।
লিটনের মতে, বিশ্বকাপের আগে এই সময়টাই নতুনদের যথেষ্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত, ‘যেহেতু বিশ্বকাপের আগে এখনও সময় আছে, তাই আমরা অন্যদেরও পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে পারি।’ অভিজ্ঞ পেসারদের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, ‘ওরা বাংলাদেশের সম্পদ। ওদের টানা খেলিয়ে চোটের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। সামনে অনেক ওয়ানডে ও টেস্ট আছে, সেটা মাথায় রেখেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।’
নতুনদের মধ্যে সাকলাইনকে নিয়ে বেশ আশাবাদী লিটন, ‘আমার কাছে সাকলাইন একজন অলরাউন্ডার। বিপিএলে রাজশাহীর হয়ে দারুণ খেলেছে, সবার নজর কেড়েছে। আমরা চাই তাকে গড়ে তুলতে, যেন ভবিষ্যতে দলে নিয়মিত খেলতে পারে।’ অন্যদিকে রিপন মণ্ডলকে নিয়েও বাস্তববাদী অধিনায়ক, ‘হয়তো ওরা ব্যাটিংয়ে খুব শক্তিশালী না, কিন্তু পাঁচ-ছয়টা গুরুত্বপূর্ণ রানও অনেক সময় পার্থক্য গড়ে দেয়।’
মোস্তাফিজের মতো বোলারের অভাব পূরণ সহজ নয়, সেটাও স্বীকার করেছেন লিটন, ‘মোস্তাফিজ তো মোস্তাফিজই। তার জায়গা পূরণ করা কঠিন। কিন্তু কেউ না খেললে অন্য কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে। সেই জায়গা থেকেই আমরা দল প্রস্তুত করছি।’ লিটনের কণ্ঠে ছিল ধৈর্যের বার্তা, ‘অনেক দিন পর আমরা টি- টোয়েন্টি খেলতে নামছি।
শুরুতেই অতিরিক্ত চাপ দিতে চাই না। এক-দুই ম্যাচ খেললেই খেলোয়াড়রা নিজেদের জায়গা বুঝে নেবে।’ সামনে টানা তিন সিরিজে মোট ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থাকায় এটিকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি, ‘ভালো দলের বিপক্ষে টানা সিরিজ খেলাটা ইতিবাচক। এক সিরিজ খেললে পরেরটা সহজ হয়ে যায়।’
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দলটি এবার আরও বেশি অনভিজ্ঞ। নিয়মিত তারকারা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকায় তুলনামূলক তরুণ দল নিয়েই সফরে এসেছে তারা। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ইশ সোধি, একাই খেলেছেন ১৪০ ম্যাচ। দলের বাকিদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতাও তার চেয়ে কম। তবুও অভিজ্ঞতার ঘাটতি মানতে নারাজ অধিনায়ক টম ল্যাথাম, ‘আমাদের কারও কারও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম, কিন্তু তারা ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছে। ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই তারা খেলে অভ্যস্ত।’
টি-টোয়েন্টির অনিশ্চয়তাকেই বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন ল্যাথাম, ‘এই ফরম্যাটে একজনের ভালো দিনই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। কয়েকটা বলেই খেলা ঘুরে যেতে পারে। লম্বা সংস্করণে সময় লাগে, কিন্তু এখানে এক ওভারই যথেষ্ট।’ ওয়ানডে সিরিজে প্রথম ম্যাচ জিতলেও পরের দুই ম্যাচে ছন্দ হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
তবে টি-টোয়েন্টিতে নতুনভাবে শুরু করতে চায় তারা। চট্টগ্রামের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে তাই দুই দলের সামনেই বড় সুযোগ- একদিকে বাংলাদেশ নতুনদের পরীক্ষা করবে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড প্রমাণ করতে চাইবে, অভিজ্ঞতা কম হলেও লড়াইয়ে তারা কম নয়।
/কেএইচও