শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের পর বন্যার শঙ্কা, বিপাকে হবিগঞ্জের হাওরের কৃষকরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম পুরোদমে শুরু হলেও বহুমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তীব্র শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি

2026-04-27T10:09:26+00:00
2026-04-27T10:09:26+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শ্রমিক ও জ্বালানি সংকটের পর বন্যার শঙ্কা, বিপাকে হবিগঞ্জের হাওরের কৃষকরা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম পুরোদমে শুরু হলেও বহুমুখী সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তীব্র শ্রমিক সংকট ও জ্বালানি তেলের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ধান কাটার গতি থমকে গেছে। এর মধ্যেই নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার পূর্বাভাস। একদিকে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি, অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই উপজেলায় আগাম বন্যার আশঙ্কায় মাইকিং শুরু করেছে কৃষি বিভাগ। আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। কৃষকরা জানিয়েছেন, এখনো অর্ধেকের বেশি ধান মাঠে রয়ে গেছে, যা আগামী দুই দিনে কাটা প্রায় অসম্ভব। শ্রমিক না পাওয়ায় অনেকেই কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের ওপর ভরসা করেছিলেন, কিন্তু ডিজেল সংকটে অনেক মেশিনই এখন অচল হয়ে পড়ে আছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে হাওরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মৌসুমের এই সময়ে কাটার অগ্রগতি আরও বেশি হওয়ার কথা থাকলেও নানা প্রতিকূলতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ধান কাটার প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। আগে বাইরের জেলা থেকে মৌসুমি শ্রমিকরা আসলেও এখন তাদের দেখা মিলছে না। মজুরি বাড়ালেও পর্যাপ্ত জনবল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার রিচি এলাকার হারভেস্টার মালিক ফরিদ মিয়া জানান, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বাইরে থেকে চড়া দামে তেল কিনে মেশিন চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। 

কৃষক রকিব মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ধান পেকে গেছে কিন্তু কাটার লোক নেই। আগে পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে, এখন বন্যার ভয়ে বুক কাঁপছে।

তবে আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে স্বাভাবিক সময়ের আগেই হাওরে পানি প্রবেশ করতে পারে। দ্রুত ধান কাটা শেষ করতে না পারলে বিপুল পরিমাণ ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হারভেস্টার মেশিনে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

/কহু



  বিষয়:   বন্যা  ধান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: