কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে এক যাত্রীর চারটি দাঁত ভেঙে গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর এই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ দাঁত ভেঙ্গেছে যাত্রী মোহাম্মদ হিমেল আহমেদের (২৫)। অপর যাত্রী মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৪০) ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীরা জানায়, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার স্টেশন ছেড়ে আসে। আহত দুই যাত্রী ছিলেন নন-এসি কোচের (ঢ বগি) ৩৫-৩৬ নম্বর আসনে। কক্সবাজারের চকরিয়া চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় বগিতে বাইরে থেকে একটি পাথর ছুড়ে মারা হয়। এতে তিনজন আহত হন।
আরও পড়ুন
ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে এলে আহত যাত্রীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ওই যাত্রীদের নিয়ে বিকেল সোয়া চারটার দিকে ট্রেনটি আবার ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
ট্রেনের ঢ বগির যাত্রী সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তারা ১৮ থেকে ২০ জন দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ট্রেনে করে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। বগির জানালা ছিল খোলা। পাথরের আঘাতে হিমেলের চারটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় মুখের ঠোঁটের ভেতরের অংশও ফেটে যায়। এতে কয়েকটি সেলাই লাগতে পারে। আরেক যাত্রী ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট বগিতে ছিলেন না। পাথর নিক্ষেপের বিষয় জানার পর গার্ড ও অ্যাটেনডেন্ট ঘটনাস্থলে আসতে দেরি করেন। একজন রেলওয়ে পুলিশ সদস্য সহযোগিতা করেছেন। অন্যরা অবহেলা করেছেন। স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানালে উল্টো জানালা খোলা রাখার বিষয় নিয়ে যাত্রীদেরই প্রশ্ন করা হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রায় সময় ঘটে। গত এক বছরে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের ট্রেনগুলোতে অন্তত ১৪৫ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা কক্সবাজার রুটে। এই রুটে গত এক বছরে অন্তত ৩৮টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ১৪ জন আহত হয়েছেন।
এএডি/