তফসিলের আগেই উত্তাপ

সাইফুদ্দিন তুহিন চট্টগ্রাম

সারাদেশ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। আলোচনায় নেই নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ। বর্তমান মেয়রের মেয়াদের সময় নিয়েও আছে বিভ্রান্তি।

2026-04-28T02:37:11+00:00
2026-04-28T02:37:11+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
তফসিলের আগেই উত্তাপ
সাইফুদ্দিন তুহিন চট্টগ্রাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। আলোচনায় নেই নির্বাচনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ। বর্তমান মেয়রের মেয়াদের সময় নিয়েও আছে বিভ্রান্তি। তবুও নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখনই তৎপরতা শুরু করেছেন। আলোচনায় ঝড় উঠছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী দলের প্রার্থী। ২০ এপ্রিল নগর জামায়াতের শূরা বৈঠকে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার কথা গণমাধ্যমে জানানো হয়। জামায়াতের এই প্রার্থী দলের নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। চট্টগ্রাম মহানগরের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শূরা বৈঠকে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

জামায়াত মনোনীত শামসুজ্জামান হেলালী ষোলশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান তূর্য্যরে কাছে হেরে যান। সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৮ ভোট। আর শামসুজ্জামান হেলালী পান ৭৬ হাজার ৯১৯ ভোট। বড় ব্যবধানে সাঈদ আল নোমান জয় পেলেও হেলালী প্রদত্ত ভোটে ৩৮ শতাংশ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, নিয়ম অনুসরণ করে দলের নগর শাখার সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে শামসুজ্জামান হেলালীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি চসিক নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী। 

পরবর্তী সময়ে নির্বাচনি ঐক্য হলে জামায়াত-এনসিপি একক কোনো প্রার্থী দিতে পারে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী। জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার চিন্তা নেই দলে। বলা যায় তিনিই জামায়াতের চূড়ান্ত প্রার্থী।

দলের পক্ষ থেকে ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতাকে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই সম্ভাবনা আর নেই বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। 

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চসিক নির্বাচনে শক্তভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এনসিপি নির্বাচনে ‘ওজনদার’ প্রার্থী দিতে চায়। গত ১৪ এপ্রিল দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ দেখা করেন সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের সঙ্গে। ওইদিন বিকালে মনজুর আলমের কাট্টলির বাসায় বৈঠক চলাকালেই ঘেরাও পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি। 

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা হাসনাতকে প্রশ্ন করেন তিনি ফ্যাসিস্টের সহযোগীর সঙ্গে কেন দেখা করতে গেলেন। নানা প্রশ্নে জর্জরিত হাসনাত একপর্যায়ে মনজুরের বাসভবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। হাসনাত চলে যাওয়ার পর সর্বত্র তুমুল আলোচনা শুরু হয় মনজুর এনসিপির প্রার্থী হয়ে চসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে পরদিনই মনজুর আলম এনসিপির প্রার্থী হওয়ার কথা নাকচ করে দেন। 

তিনি বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেছেন। এনসিপির প্রার্থী হওয়ার কোনো প্রস্তাব দেননি। হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন চট্টগ্রামে ব্যক্তিগত কাজে এসে মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। চসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো প্রস্তাব তাকে দেওয়া হয়নি। এক দিন পর গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি খোলাসা করে দেন এনসিপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এম মনজুর আলমকে চসিক নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা গ্রহণ করেছেন, না করেননি সে ব্যাপারে কিছু বলেননি। 

গত রমজান মাসে চট্টগ্রাম নগরীর কনভেনশন সেন্টার কিং অব চিটাগাংয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল এনসিপি। সেই মাহফিলে ইফতার সরবরাহ করেছিলেন এম মনজুর আলম। মূলত এই মাহফিলের পরেই এনসিপির সঙ্গে মনজুর কানেকশন আলোচনায় এসেছে। এনসিপির পক্ষ থেকে এম মনজুর আলমের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। মনজুর আলম চসিক নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি এবার নির্বাচন করবেন না এমন কথা কোথাও বলেননি। তাই তিনি কোন দলের প্রার্থী হয়ে কোন ঘাটে ভিড়বেন তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই।
 
এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন কি না এ প্রশ্নে এম মনজুর আলম সময়ের আলোকে বলেন, ১৪ এপ্রিল হাসনাত আব্দুুল্লাহ আমার সঙ্গে বাসায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু চসিক নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। কিংবা হাসনাত আব্দুুল্লাহ আমাকে চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী হতে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বাসায় দেশ-বিদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আর এনসিপির প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে চলছে সরব আলোচনা। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে চসিক নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে বর্তমান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগশূন্য নির্বাচনি মাঠে এতদিন তিনি ছিলেন অনেকটা নির্ভার। বড় দল হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডে তার সাংগঠনিক ভিত্তি অনেকটা মজবুত। তা ছাড়া তিনি চসিক মেয়রের দায়িত্বে থাকায় নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রতিদিন তার কর্মসূচি থাকে সেবামূলক নানা কাজের। বর্জ্য অপসারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জলাবদ্ধতা নিরসনকাজ, মনিটরিং থেকে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম সবখানে তার নিয়মিত উপস্থিতি চোখে পড়ে। এখন পর্যন্ত আগামী চসিক নির্বাচনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি। তিনি নিজেও বলেছেন, চসিক নির্বাচনের জন্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। দল আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন না দিলেও চসিক নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আভাস দিয়েছেন। 

তবে এম মনজুর আলম কি প্রার্থী হচ্ছেন বা জামায়াত-এনসিপি কি একক প্রার্থী দেবে তা নিয়ে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি এম মনজুর আলম ১১ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সে ক্ষেত্রে মাঠের চিত্র পাল্টে যাবে এমন ধারণা অনেকের। এনসিপি আর জামায়াত শেষ পর্যন্ত পৃথকভাবে নির্বাচন করলে বিএনপির জন্য সহজ জয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মনজুর আলম সব হিসাব-নিকাশ এলোমেলো করে দিয়েছেন এমন মনে করেন বিএনপির অনেকে সিনিয়র নেতাই।

নগর বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক ইদরিস আলী সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি দেশের বৃহৎ গণমুখী একটি দল। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই আছে শক্ত অবস্থান। তা ছাড়া বর্তমান মেয়র শাহাদাত ভাই একজন যোগ্য প্রার্থী। তিনি দলের প্রার্থী হলে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন কোনো সন্দেহ নেই। 

১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিলে কিংবা এম মনজুর আলম প্রার্থী হলে নির্বাচনের মাঠ কঠিন হবে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মনে করি না বিএনপির মেয়র প্রার্থীর জন্য কঠিন হবে। তবে একটি বড় প্রশ্ন আছে এ বছর চসিক নির্বাচন হবে কি না। এখনও তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তফসিল ঘোষণার জন্য ইসির কোনো রূপরেখাও নেই। তাই আমার ধারণা এ বছর নির্বাচন নাও হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, এম মনজুর আলম একবার বিএনপির টিকেটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনের দিন দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নির্বাচন বর্জন করেছিলেন। ওইদিন দুপুর পর্যন্ত পাওয়া ভোটের হিসাবে বেশ বড় অংশের ভোটারের সমর্থনের চিত্র ফুটে আসে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আ জ ম নাছির একের পর এক কেন্দ্র দখল করায় মনজুর আলমের জয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। 

মূলত কারচুপির বিষয়টি সামনে আনতে বিএনপি তাকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিতে বলেছিল। কিন্তু মনজুর আলমের বিশ্বাস ছিল তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকলে জয়লাভ করতেন। দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে বাধ্য করায় নির্বাচনের পর অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। বিএনপির কোনো কর্মসূচিতেই আর তেমন দেখা মিলত না মনজুর আলমের। তবে নগরীতে মনজুর আলমের জনপ্রিয়তা আছে এমনটা মনে করেন অনেকেই। ভোটারদের বড় অংশের ভোট তার বাক্সেই পড়বে এমন ধারণা সম্ভাব্য সব প্রার্থীর। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত চসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাল্টে যেতে পারে হিসাব-নিকাশ।

এনসিপির নগর কমিটির এক নেতার মতে হাসনাত আব্দুুল্লাহ মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করার পর দিনই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছিলেন, হাসনাত আব্দুুল্লাহ সংসদে বড় বড় কথা বলেন আর ফ্যাসিস্টের সঙ্গে দেখা করবেন এটা কোনো নীতি-নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ধরন দেখে মনে হয়েছে এম মনজুর আলম এবার প্রার্থী হলে বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করবেন ডা. শাহাদাত হোসেন। বাস্তবে মনজুর আলমের নির্বাচন করার খবরে অনেকের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে কী হয় তা বলা যায় না। মনজুর আলম এনসিপি কিংবা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে চসিক নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপি প্রার্থীর হিসাব পাল্টে যাবে। সহজ জয় অনেক কঠিন করে তুলবে তাতে সন্দেহ নেই। 

চসিক নির্বাচন ও মনজুর আলমের পল্টি : একসময় এম মনজুর আলম ছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত ওয়ার্ড কাউন্সিলর। দীর্ঘদিন তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা বা ভালোবাসার কথা। ছড়িয়ে পড়া একটা ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, ৭০ বছরের জীবনে ৬৫ বছরই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ তিনি শিশু বয়স থেকে পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন। সেই মনজুর আলম মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছেন। পরে ধানের শীষ প্রতীকে ২০১৫ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হওয়ার পর তিনি বদলে যান। শুরু হয় পল্টিবাজির নতুন ইতিহাস। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। তবে বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। 

দায়িত্ব পালন নিয়ে যা বললেন ডা. শাহাদাত : গত ২২ ফেব্রুয়ারি নগরীর হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধন করতে যান চসিক মেয়র। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আদালতের রায়ে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে এর আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন চান। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দেশের অন্য সিটির মেয়রদের মতো রেজাউল করিম চৌধুরীকে অপসারণ করা হয়েছিল। অপসারিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী ওই পরিষদের মেয়াদ শেষ হয় ২২ ফেব্রুয়ারি।

২২ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রেজাউল করিম চৌধুরীর যে মেয়াদ তা পুরোটাই অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। তাই যেদিন থেকে তিনি শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ তার। অর্থাৎ, ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরের আগে মেয়াদ শেষ হবে না। আর সরকার তাকে যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, তার মেয়াদও পাঁচ বছরের, দেড় বছরের নয়। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।



  বিষয়:   চট্টগ্রাম  সিটি  করপোরেশন  চসিক 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: