ইরানে সশরীরে ক্লাস খোলার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি দেশটির কিছু স্কুল অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সশরীরে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিষ্কার করেছে, সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশজুড়ে সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল লার্নিং বা অনলাইন পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে এই ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো সরাসরি কেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানায়, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া সশরীরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
গত ২০ এপ্রিল ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় স্কুলগুলো বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। এর পরিবর্তে সরকারি ‘শাদ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অনেক পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন না থাকায় এই ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সরাসরি ক্লাস না হওয়ায় বিশেষ করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আসন্ন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা অন্তত তিন দিন আগে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে। আপাতত আগামী জুন মাসের শুরু পর্যন্ত এই ভার্চুয়াল শিক্ষা ব্যবস্থা বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/কহু