দুর্গম আলীকদমে হামের থাবা, আক্রান্ত ৮৩

বান্দরবান প্রতিনিধি

সারাদেশ

বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ৮৩ জন হামের রোগী শনাক্ত

2026-04-28T20:00:48+00:00
2026-04-28T20:00:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
দুর্গম আলীকদমে হামের থাবা, আক্রান্ত ৮৩
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০০ পিএম 
হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। ছবি : সংগৃহীত
বান্দরবানের দুর্গম আলীকদম উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ৮৩ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আলীকদম উপজেলায়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুরুকপাতা বাজারে একটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্পে একসঙ্গে ৩০ জন রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে তিনজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স, একজন এলএমএস এবং একজন সহকারী সিভিল সার্জন দায়িত্ব পালন করছেন।

চিকিৎসকরা জানান, ক্যাম্প চালুর প্রথম দিন জ্বর ও শরীরে গুটি নিয়ে আসা ৬৫ জন রোগীর মধ্যে তিনজনের শরীরে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরদিন ৫৫ জন রোগী পরীক্ষা করে আরও ছয়জন আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের ক্যাম্পেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আলীকদম ও লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে। সোমবার পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় অন্তত ৩২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮ জন এবং লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়জন চিকিৎসাধীন।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মো. হানিফ চৌধুরী জানান, একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৮ জন ম্রো শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যাদের সবাই কুরুকপাতা ইউনিয়নের বাসিন্দা। আক্রান্তদের অধিকাংশই ম্রো ও মারমা সম্প্রদায়ের শিশু।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। 

কুরুকপাতা এলাকার বাসিন্দা ইয়াংথাং ম্রো বলেন, ‘কোনো শিশু অসুস্থ হলে আলীকদম সদর হাসপাতালে নিতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য অনেক বেশি। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় জরুরি সময়ে যানবাহন ডাকার সুযোগও থাকে না।’


সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলায় ৬ জন এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ৬ জন হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে জেলা সদর, থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় এখনো কোনো আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে কুরুকপাতা ইউনিয়নে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো জানান, সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যুর দাবিও করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের ফলে কিছুটা স্বস্তি এলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যাম্পটিকে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

কুরুকপাতা ইউনিয়নের ইয়াংরিং পাড়ায় অবস্থিত ‘প্লেননই হোস্টেল’ এ প্রায় ১৫০ জন ম্রো শিশুর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন ইতোমধ্যে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

/কেএইচও


  বিষয়:   দুর্গম আলীকদম  হাম  আক্রান্ত 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: