বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।। ছবি : সংগৃহীতভোলার মনপুরায় বেশি দাম দিয়েও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ক্ষোভে সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। গত ছয় মাস ধরে দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিতরণ করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এছাড়াও ইউনিট প্রতি ৩০ টাকার সাথে মাস শেষে ৭০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয় বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামে স্থাপিত ওয়েস্টার্ন রিনিউএবল এনার্জী সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তালা দেয় বিক্ষুব্ধরা। এর আগে বিক্ষুব্ধরা ওই সোলার মিনিগ্রিড বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশ করে বিক্ষোভ-মিছিল করে।
আজাদ খলিফা, জসিম মিঝি, ফরহাদ সহ একাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অভিযোগ করে জানান, ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা করে দেওয়ার পরও বিদ্যুৎ পাই না। দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়, আর রাতে অন্ধকারে থাকতে হয়। গত মাস ধরে এমন ভোগান্তি পড়েছেন তারা। কিন্তু মাস শেষে হলে বিলের সাথে সার্ভিস চার্জসহ তারা পরিশোধ করছে। তারা বেশি দাম দিয়ে হলেও ২৪ ঘণ্টা দাবী করেন।
একইভাবে অভিযোগ করেন সিরাজগঞ্জ বাজার, কোড়ালিয়া বাজার ও জনতা বাজার ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের জন্য তাদের ব্যবসায় চরম লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের দাবী করেন।
এদিকে সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাকুচিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, রাতে বিদ্যুৎ না দেওয়া কুপি ও হারিকেন আলোয় পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম কষ্ট হচ্ছে বলে জানান তারা।
এই ব্যাপারে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, জ্বালানী সংকটের কারণে জেনারেটর চালু করে ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে গ্রাহকদের দাবী যৌক্তিক। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক এস. এন. কাইয়ুম বাপ্পি বলেন, আমাদের প্রতিদিন রেজিস্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের হিসাব রাখা হয়। আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূর্যের আলোতে চার্জের মাধ্যমে চলে। ফলে রোদ না থাকলে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে শুরু থেকে ব্যাকআপ হিসেবে আমাদের ২৫০ কিলোওয়াটের একটি জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ দিয়ে আসছি। তবে বর্তমানে দেশে ডিজেলের সংকট থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। আমরা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ডিজেলের জন্য আবেদন করেও পাইনি। আমরা লিখিত অভিযোগ দিতে বলছি,তবে গ্রাহক মব সৃষ্টি করে তালা দিয়েছে।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবু মুছা জানান, বিদ্যুৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে শুনে সোলার মিনিগ্রিড কোম্পানির দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে। জ্বালানী সংকটের অজুহাত তুলে তারা রাতের বেলায় বিদ্যুৎ দিচ্ছে না। তবে মনপুরায় জ্বালানী সংকট নেই বলে জানান ইউএনও।
/কেএইচও