প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম আপডেট: ৩১.১০.২০২৬ ১১:৫৪ এএম
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মুদি দোকানের সব মালামাল। ছবি : সময়ের আলো গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে তিন ব্যবসায়ীর দোকান ও গোডাউনের মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোর রাতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ও পীরগাছা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বাজারের নৈশপ্রহরী প্রথম আগুন দেখতে পান। পরে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়রাও আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে পীরগাছা ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট যোগ দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারের ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমানের মুদি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তার দোকান ও দুটি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাশের তার ভাই মো. এরশাদ মিয়ার কাঠের দোকান এবং মো. হাফিজুর রহমানের হার্ডওয়্যার দোকানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকান ও গোডাউনে থাকা মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেওডোবা গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের মুদি দোকান ও দুটি গোডাউনের প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। তার ভাই মো. এরশাদ মিয়ার কাঠের দোকানে প্রায় এক লাখ টাকা এবং একই গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানের হার্ডওয়্যার দোকানে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন ব্যবসায়ীর প্রায় ৩৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে দীর্ঘদিনের পুঁজি ও মজুত করা পণ্য হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। নতুন করে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হাসানগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পীরগাছা ফায়ার সার্ভিসের আরেকটি ইউনিট যোগ দেয়। দুই ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
সময়ের আলো/জোই