দখল-দূষণে বিপন্ন মৌলভীবাজারের মনু নদ

সাইদুল হাসান সিপন, মৌলভীবাজার

সারাদেশ

মৌলভীবাজার পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে একসময়ের খরস্রোতা মনু নদ। কয়েক দশকের অব্যাহত দখলে নদীটি হারিয়েছে নাব্যতা। অন্যদিকে, ময়লা-আবর্জনা

2026-10-31T12:40:11+00:00
2026-10-31T12:40:11+00:00
 
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৫ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
দখল-দূষণে বিপন্ন মৌলভীবাজারের মনু নদ
সাইদুল হাসান সিপন, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম 
দখল-দূষণে বিপন্ন মৌলভীবাজারের মনু নদ
মৌলভীবাজার পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে একসময়ের খরস্রোতা মনু নদ। কয়েক দশকের অব্যাহত দখলে নদীটি হারিয়েছে নাব্যতা। অন্যদিকে, ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি ও জীববৈচিত্র্য। একসময়ের প্রাণচঞ্চল মনু নদ এখন পরিণত হচ্ছে দূষিত ও অপরিচ্ছন্ন জলধারায়। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন শহরবাসী। তবে মাঝেমধ্যে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় পরিবেশবিদ খসরু চৌধুরী বলেন, যখন যেভাবে প্রয়োজন, তখন সেভাবেই মনু নদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের পর দিন নদীটিতে যেভাবে দখল ও দূষণ চলছে, তাতে আমরা শঙ্কিত। এর পানি এখন আর ব্যবহার করা যায় না। একসময় শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক স্নানের ঘাট ছিল। এখন চাঁদনীঘাট মনু সেতুর পাশে সৈয়ারপুর এলাকার একটি ঘাট ছাড়া বাকি ঘাটগুলো দখল হয়ে গেছে। নদটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে এটি শহরবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন ওয়ালীদ বলেন, মনু নদের বাঁধের ভেতরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, মনু নদ মৌলভীবাজার পৌর শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। শহরের দুই অংশের মধ্যে যোগাযোগের জন্য নদটির ওপর রয়েছে অন্তত তিনটি সেতু। এ ছাড়া রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। এসব সেতুর মধ্যে চাঁদনীঘাট সেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান সড়কে যাতায়াতের জন্য সেতুটি ব্যবহার করেন শহরের অসংখ্য মানুষ।

সেতুর উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে কাঁচাবাজার। বাজারের ময়লা-আবর্জনা প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে নদে। শুধু ওই এলাকাই নয়, শহরের ভেতরে নদটির বিভিন্ন স্থানে জমে আছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া চাঁদনীঘাট সেতুর পশ্চিম-উত্তর পাশে মনু নদের বাঁধের ভেতরে একাধিক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে।


চাঁদনীঘাট সেতুসংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী তানভীর বলেন, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নোংরা পরিবেশে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়েছে। মাঝেমধ্যে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। কয়েক বছর আগে প্রশাসন কিছু এলাকা দখলমুক্ত করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তদারকি না থাকায় সেসব জায়গা আবারও দখল হয়ে যাচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার অংশে মনু নদের দৈর্ঘ্য ৭৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পৌর শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ছয় কিলোমিটার।

শহরের বাসিন্দা আব্দুস শহীদ (৬৫) বলেন, একসময় খরস্রোতা মনু নদ ছিল প্রাণচঞ্চল। নদীতে জোয়ার-ভাটার মতো পানির প্রবাহ দেখা যেত। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় মহাজনি নৌকা আসত। পালতোলা নৌকা, স্টিমার ও লঞ্চ চলাচলে মুখর থাকত নদটি। কিন্তু প্রায় তিন দশক ধরে বড় নৌযানের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে নদটি তার আগের রূপ হারিয়েছে।


পৌর শহরের বাসিন্দা প্রবীণ সাংবাদিক মামুনূর রশীদ বলেন, দখল-দূষণে মনু নদ এখন বিপন্ন। গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে শুরু করে নানা ধরনের আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে। যারা নদীকে দূষিত ও দখল করছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মনু নদকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য আরও হুমকির মুখে পড়বে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   দখল  দূষণ  বিপন্ন  মনু নদ  দূষিত  অপরিচ্ছন্ন  জলধারা  ময়লা-আবর্জনা  অপসারণ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: