ফুঁসে উঠেছে প্রমত্তা পদ্মা

রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

সারাদেশ

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নির্ঘুম রাত ও

2026-04-29T03:34:17+00:00
2026-04-29T03:34:17+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ফুঁসে উঠেছে প্রমত্তা পদ্মা
রেজাউল করিম গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৪ এএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে নির্ঘুম রাত ও আতঙ্কে দিন কাটছে পদ্মা পাড়ের মানুষের। রাক্ষুসে পদ্মার তাণ্ডবে ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। হুমকির মুখে রয়েছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভাঙনে এরই মধ্যে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ঘর, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েকশ বসত বাড়িঘর।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সরেজমিন আলাপকালে স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে নদীগর্ভে হারিয়ে যায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি। এভাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা মানচিত্র থেকেই মুছে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখনই নদীভাঙন রোধ না করলে নদী পাড়ে যারা বসবাস করে তাদের ভিটেমাটি ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে হবে। 

সরেজমিন ভাঙনকবলিত স্থানে দেখা যায়, ভাঙন দেখতে নদীর তীরে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গেছে। তাদের একটাই দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পদ্মার ভাঙন রোধ করে বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। এদিকে বহুল আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী তীর রক্ষার পরিকল্পনা থাকলেও সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খবির সরদার, লোকমান সরদার জানান, গত কয়েক দিনে নদীভাঙনে কাউয়ালজানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় তিন কাঠা ধানের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসলি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় আরও জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদার ও কুদ্দুস সরদার বলেন, আমার বাবার ১০০ বিঘা জমি ছিল। জমি যা ছিল সব নদীতে বিলীন হতে হতে এখন মাত্র আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। এক বিঘা জমি দিয়েই কৃষিকাজ করে আমার সংসার চলে। এটুকু নদীতে চলে গেলে পথে বসতে হবে আমাকে।


  বিষয়:   রাজবাড়ী  গোয়ালন্দ  দেবগ্রাম  কাউয়ালজানি  মুন্সিবাজার  পদ্মা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: