সারা দেশে রেলসেবায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের যাত্রীরা। এই স্টেশন থেকে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীসহ হাজারো যাত্রী প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন। স্টেশনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আকতার হোসেন বলেন, এই স্টেশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে। স্টেশনের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রেলওয়ে পুলিশ সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। স্টেশনের চতুর্দিকে বাউন্ডারি থাকলে ভালো হতো। তারপরও আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সীমানা প্রাচীরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে অচিরেই প্রাচীরের কাজ শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, এটি একটি বিভাগীয় শহরের জংশন স্টেশন। এই স্টেশনের প্রায় সব দিক দিয়েই খোলা। সীমানা প্রাচীর না থাকায় দুষ্কৃতকারী ও বিনা টিকেটের অবৈধ যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে গিয়ে এসব পথ দিয়ে চলে যায়। যার কারণে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এটি কার্যকর হবে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, স্টেশনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে টিকেটধারী যাত্রী ছাড়া বহিরাগত মানুষ সবসময় প্রবেশ করতে পারবে না। কারণ এখানে স্টেশনের নিরাপত্তার এবং টিকেটের বিষয় আছে। এই লক্ষ্যে সীমানা প্রাচীরের কাজটি শুরু করা হয়েছিল। বেশ কিছু দিন আগে ঠিকাদার ঠিকমতো বিল না পাওয়ায় কাজটি বন্ধ রেখেছেন। তাদের দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাজেট আসলেই কাজটি দ্রুত শুরু করা হবে।
রেলস্টেশনে সরেজমিন দেখা যায়, গেটে স্টেশনের কোনো কর্মকর্তা না থাকায় কোনোরকম বাধা ছাড়াই স্টেশনের মূল প্রবেশ পথ দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। মূল প্রবেশ পথ ছাড়াও স্টেশনটিতে আরও চলাচলের পথ রয়েছে। কিছু কিছু স্থান দিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই মানুষ চলাচল করছে। মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সহজেই অপরাধ করে এসব পথ দিয়ে নিরাপদে চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া স্টেশনের প্রাচীর না থাকায় বিনা টিকেটের যাত্রীরা এসব পথ দিয়ে চলে যায়।
ময়মনসিংহ জংশন স্টেশনের সীমানার বাইরে ব্যস্ত নগরীর হাজারো মানুষের যাতায়াতের জন্য একটি ওভারব্রিজ করা হয়। কিন্তু স্টেশনের বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ৬-৭টি রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকার পরও সময় বাঁচানোর জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচল করে থাকে মানুষ।
স্টেশনের যাত্রীরা জানান, ময়মনসিংহ স্টেশন একটি রেলওয়ে জংশন। এটি একটি ব্যস্ততম স্টেশন। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা চলাচল করেন। স্টেশনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মানুষ নিরাপদে চলাচলের জন্য ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকে। কিন্তু এই স্টেশনে ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ মানুষ রয়েছে। এ জন্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখানে অরক্ষিত। ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের মোবাইল ফোন অথবা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে এসব পথ দিয়ে কোনোরকম বাধা ছাড়াই পালিয়ে যায়। তখন যাত্রীদের কিছুই করার থাকে না।