ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ব্যস্ততম ত্রিশাল-পোড়াবাড়ী সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের বাইরে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। এলজিইডি ও পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় প্রায় ৫০ মিটার সড়ক কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, সড়কটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ এলজিইডির আওতায় এবং বাকি দেড় কিলোমিটার ত্রিশাল পৌরসভার অধীনে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে পৌরশহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এ সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
পৌরসভার শেষ সীমান্তের কাছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইপাস সড়কের সংযোগস্থল চিকনা মোড় থেকে পৌরসীমা পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিটার অংশে বড় বড় খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটুসমান পানি জমে, যা চলাচলকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অংশটি এলজিইডি ও পৌরসভার মধ্যবর্তী সীমারেখায় পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ ঝুলে আছে। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি তাদের অংশের কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করলেও এই অংশটি অসমাপ্ত রেখেই কাজ সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, এটি পৌরসভার আওতার বাইরে হওয়ায় তারাও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় সড়কটি অবহেলায় পড়ে আছে।
অটোরিকশা চালক বাদল মিয়া বলেন, এই রাস্তায় চলতে গেলে প্রতিদিনই গাড়ির ক্ষতি হয়। যাত্রী তুলতেও ভয় লাগে, কখন দুর্ঘটনা ঘটে বলা যায় না।
সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, বর্ষা এলে এখানে ছোট পুকুরের মতো পানি জমে। তখন বাধ্য হয়ে ঘুরপথে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে।
ট্রাক চালক রুবেল মিয়া বলেন, এই অংশে ঢুকলেই গাড়ি দুলতে থাকে। ভারী যান নিয়ে চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে পৌর প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার দেবনাথ বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশটি পৌরসভার আওতায় নয়, এটি ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদের সড়ক সাধারণত এলজিইডি বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে পুরো সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, আমি যোগদানের পর ওই সড়কে কোনো কাজ হয়নি। অংশটি আমাদের আওতায় পড়লে আমরা সংস্কারের ব্যবস্থা নেবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, অংশটি কোন দপ্তরের আওতায়, তা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা যারই হোক, এটি সংস্কার করতেই হবে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।