গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো এক নারীর দায়ভার এসে পড়েছে তার দুই জামিনদারের ওপর। ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় বাধ্য হয়ে জামিনদাররা পুরো টাকা পরিশোধ করলেও এখনো সেই অর্থ ফেরত পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগী মোছা. আফরোজা বেগম (৪৫) উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দ্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. উমর আলীর স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মো. রেজাউল মন্ডল (৫০), মো. ফিরোজ মিয়া (২২) এবং রেজাউল মন্ডলের স্ত্রী মোছা. বেহুলা বেগম (৪৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় বেহুলা বেগমের বিদেশযাত্রার জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে আফরোজা বেগম ও তার পরিচিত শাহিনা বেগমকে জামিনদার রেখে আশুলিয়ার একটি এনজিও থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বেহুলা বেগম আফরোজার কাছ থেকে ৫০ হাজার এবং শাহিনার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। এতে মোট লেনদেন দাঁড়ায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
পরে বেহুলা বেগম সৌদি আরবে চলে যান। এদিকে অপর দুই অভিযুক্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে গড়িমসি করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান। ফলে এনজিও কর্তৃপক্ষের চাপে পড়ে জামিনদার আফরোজা বেগম ও শাহিনা বেগম পুরো ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি বেহুলা দেশে ফিরেছেন জানতে পেরে গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে তারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে টাকা দাবি করলে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আফরোজা বেগম সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পাওনা টাকা উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কারণে জামিনদারসহ কয়েকজন গার্মেন্টস কর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন। কর্মস্থলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেহুলা বেগম ও তার স্বামী রেজাউল মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।